ঢাকা শহরের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল জরিমানা কিংবা মামলা নয়, বরং চালকদের স্বাস্থ্যসেবা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জিপিএস প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সমন্বিত বা ‘হলিস্টিক’ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানী ঢাকায় বাসের চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সার্বিক শারীরিক সুস্থতা বিচারে টার্মিনালগুলোতে বিনামূল্যে হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা করছে ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রীর জীবনের দায়িত্ব বহনকারী চালকরা যাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় শব্দদূষণ, ধূলিকণা ও বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে দায়িত্ব পালন করায় ট্রাফিক পুলিশ ও হকারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান যে, উচ্চমাত্রার শব্দে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস বা হিয়ারিং লসের ঝুঁকি ব্যাপক বাড়ছে। এছাড়া নিয়মিত ট্রাফিক পরিদর্শনের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং ২০২৫ সালের বিধিমালার আওতায় কালো ধোঁয়া ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বেপরোয়া গতি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং সিগন্যাল অমান্য বন্ধে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ট্রাফিক আইনি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে ডিএমপি। এই প্রযুক্তি চালু হলে বাস বা অন্যান্য যানবাহন কখন কোন পথ অতিক্রম করেছে এবং ট্রাফিক আইন মেনেছে কি না, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যাবে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধুমাত্র চালকের ওপর দায় না চাপিয়ে সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নকশা, বিআরটিএ-র মাধ্যমে ২০ বছরের পুরোনো বাস ও ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক অপসারণ এবং বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ি স্ক্র্যাপ বা ধ্বংসের নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 























