মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি খাদ্য মজুত স্বস্তিদায়ক হলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক

বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও আয়-সক্ষমতার অভাব, ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে চার লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ জরুরি পর্যায়ে মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সূচক ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা এক কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গেইনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে। সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এফপিএমইউর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই উদ্বেগজনক ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জেলাগুলো এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চিত্রের বিপরীতে সরকারি খাদ্যশস্য মজুতের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে মোট ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ টন, গমের পরিমাণ দুই লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ টন এবং ধানের পরিমাণ এক লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ টন। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপদ মজুতের সর্বনিম্ন সীমা ১৬ লাখ টন হলেও বর্তমান মজুতের পরিমাণ তার চেয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন বেশি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

সরকারি খাদ্য মজুত স্বস্তিদায়ক হলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা উদ্বেগজনক

আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত থাকা সত্ত্বেও আয়-সক্ষমতার অভাব, ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে চার লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ জরুরি পর্যায়ে মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সূচক ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা এক কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গেইনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই বিশ্লেষণ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অভিন্ন প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে। সম্প্রতি ঢাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এফপিএমইউর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই উদ্বেগজনক ফলাফল প্রকাশ ও পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জেলাগুলো এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চিত্রের বিপরীতে সরকারি খাদ্যশস্য মজুতের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে মোট ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ টন, গমের পরিমাণ দুই লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ টন এবং ধানের পরিমাণ এক লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ টন। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপদ মজুতের সর্বনিম্ন সীমা ১৬ লাখ টন হলেও বর্তমান মজুতের পরিমাণ তার চেয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন বেশি।