মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের মৌলিক সংকট: নীতি-বিভ্রান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

উপনিবেশ-উত্তর দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা সফল হয়েছে, তারা নিজ দেশের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করেছে, কোনো বিশেষ মডেলকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সফল রাষ্ট্রগুলোর উত্থানের পেছনে তাদের স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত উন্নয়ন মডেলের প্রভাব ছিল ব্যাপক। এসব দেশে দৃঢ় ও সৎ নেতৃত্ব স্বাধীন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে যে উন্নয়ন কৌশল প্রয়োগ করে আসছে, তাতে অনেক মৌলিক সংকট বিদ্যমান। স্বাধীনতা লাভের পরপরই যথেষ্ট বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া সমাজতান্ত্রিক ধারার উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার নামে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল ও রাজনীতিকীকরণ করা হয়, যার ফলে প্রশাসনিক সুশাসন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ (মেরিটোক্রেসি) অবমূল্যায়িত হয়। এর ফলস্বরূপ নীতি-সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিবর্তে নীতি-বিভ্রান্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব এতটাই গভীর যে, তা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধে পরিণত হয়েছে, যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আদমজী পাট কল, চট্টগ্রাম স্টিল মিল, বিভিন্ন চিনি কল ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বিশৃঙ্খল নীতি-পদ্ধতির প্রধান উদাহরণে পরিণত হয়েছে। বিভ্রান্তিকর সমাজতান্ত্রিক মডেলের কারণে একটি রাষ্ট্র শুরুর সময় যে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নৈতিকতা তৈরি হওয়া উচিত ছিল, তা তৈরিতে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি।

তবে ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে আমরা আরও একটি বিভ্রান্তি ও ফাঁদের মধ্যে পড়েছি, যা এখনো বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক মডেলকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে আমরা এমন এক বাজার ব্যবস্থাকে আলিঙ্গন করেছি, যেখানে নীতি-সক্ষমতার ঘাটতি শুধু আরও গভীর হয়নি, বরং নীতি-পরাধীনতা এবং এলিট তোষণ নীতি-মীমাংসিত সত্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের বর্তমান মৌলিক সংকট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আমরা বাজারব্যবস্থা বলতে বিনা দ্বিধায় পশ্চিমা নীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করেছি। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে উপনিবেশ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করলেও চিন্তার উপনিবেশিকতায় আবদ্ধ হয়েছি এবং এমন একটি ইকো-সিস্টেম তৈরি হয়েছে, যেখানে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং সমাজের অন……

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: ঢাবির বিজয় একাত্তর হল থেকে শিবিরের সাবেক কর্মী বহিষ্কৃত

বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের মৌলিক সংকট: নীতি-বিভ্রান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

উপনিবেশ-উত্তর দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যারা সফল হয়েছে, তারা নিজ দেশের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করেছে, কোনো বিশেষ মডেলকে অন্ধভাবে অনুকরণ করেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সফল রাষ্ট্রগুলোর উত্থানের পেছনে তাদের স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত উন্নয়ন মডেলের প্রভাব ছিল ব্যাপক। এসব দেশে দৃঢ় ও সৎ নেতৃত্ব স্বাধীন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর থেকে যে উন্নয়ন কৌশল প্রয়োগ করে আসছে, তাতে অনেক মৌলিক সংকট বিদ্যমান। স্বাধীনতা লাভের পরপরই যথেষ্ট বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া সমাজতান্ত্রিক ধারার উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার নামে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল ও রাজনীতিকীকরণ করা হয়, যার ফলে প্রশাসনিক সুশাসন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ (মেরিটোক্রেসি) অবমূল্যায়িত হয়। এর ফলস্বরূপ নীতি-সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিবর্তে নীতি-বিভ্রান্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব এতটাই গভীর যে, তা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধে পরিণত হয়েছে, যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আদমজী পাট কল, চট্টগ্রাম স্টিল মিল, বিভিন্ন চিনি কল ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বিশৃঙ্খল নীতি-পদ্ধতির প্রধান উদাহরণে পরিণত হয়েছে। বিভ্রান্তিকর সমাজতান্ত্রিক মডেলের কারণে একটি রাষ্ট্র শুরুর সময় যে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নৈতিকতা তৈরি হওয়া উচিত ছিল, তা তৈরিতে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছি।

তবে ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে আমরা আরও একটি বিভ্রান্তি ও ফাঁদের মধ্যে পড়েছি, যা এখনো বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক মডেলকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে আমরা এমন এক বাজার ব্যবস্থাকে আলিঙ্গন করেছি, যেখানে নীতি-সক্ষমতার ঘাটতি শুধু আরও গভীর হয়নি, বরং নীতি-পরাধীনতা এবং এলিট তোষণ নীতি-মীমাংসিত সত্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের বর্তমান মৌলিক সংকট বিশ্লেষণ করা জরুরি। আমরা বাজারব্যবস্থা বলতে বিনা দ্বিধায় পশ্চিমা নীতি-পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করেছি। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে উপনিবেশ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করলেও চিন্তার উপনিবেশিকতায় আবদ্ধ হয়েছি এবং এমন একটি ইকো-সিস্টেম তৈরি হয়েছে, যেখানে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং সমাজের অন……