২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে এখন আমরা জুলাই মাসের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে চলা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একচ্ছত্র ফ্যাসিবাদী শাসন এবং দমন-পীড়নে যখন দেশের মানুষ অতিষ্ঠ, কিন্তু কোনো কার্যকর গণ-আন্দোলন গড়ে উঠছিল না, তখনই তরুণ প্রজন্ম এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা আমাদের সৌভাগ্য।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের শুরু থেকেই দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সে সময় পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রাথমিকভাবে অনেকেই এটিকে কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে দেখলেও, ক্রমেই এর ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’ স্লোগানটি ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যকেন্দ্রিক এ দাবিকে ঘিরে শুরুতে বাইরের সমর্থন সীমিত থাকলেও, বিগত সরকারের দমন-পীড়ন যত বাড়তে থাকে, আন্দোলনের চরিত্র ততটাই পাল্টে যেতে শুরু করে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা রক্তাক্ত রূপ নেয়, যা কেউ কল্পনাও করেনি।
পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না, তাদের পক্ষেও ঘরে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণভাবে তরুণদের দ্বারা পরিচালিত; কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীকে সামনের সারিতে দেখা যায়নি, যা ছিল এর মূল শক্তি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্মিত হয়েছিল, কারণ গুলি করেও আন্দোলনকারীদের দমানো যাচ্ছিল না। এক নেতাকে গ্রেপ্তার করলে অন্যরা এসে নেতৃত্ব দিচ্ছিল।
তৎকালীন কোটা ব্যবস্থায় প্রায় ৫৬ শতাংশ নিয়োগ হতো নানা ধরনের কোটায়, আর মেধার ভিত্তিতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৪৪ শতাংশ। এ ব্যবস্থার মূল আপত্তির জায়গা ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে, যা ছিল সবচেয়ে বেশি। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা তখন আর সরকারি চাকরির বয়সে না থাকায়, তাদের নাতি-নাতনিদের জন্যও কোটা রাখা হয়েছিল, যা প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল। এটি নিঃসন্দেহে কোটা ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার ছিল এবং এর ফলে অসংখ্য মেধাবী প্রার্থী বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তাই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এতে জনগণের ব্যাপক সমর্থন ছিল, কারণ মুক্তিযোদ্ধা কোটা মূলত দলীয় নেতাদের সুবিধা দেওয়ার একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছিল। নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসীসহ অন্যান্য কোটাও ছিল। কোটার সংস্কার করে এর মাত্রা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
রিপোর্টারের নাম 























