রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতের কারণে ইসরাইল থেকে নাগরিকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক ইসরাইলি নাগরিক তাদের মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ জন ইসরাইলি নাগরিক অন্তত তিন মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন। এই প্রবণতা ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য ইসরাইল ছেড়েছেন ৮৬ হাজার ৫০৯ জন, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৯১ হাজার ৪৯৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও ৯০ হাজার ৯২২ জন। সামগ্রিকভাবে, এই তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরাইল ছেড়েছে, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯০ হাজার।
উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইল ছাড়ার বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ৬০ হাজার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন দেশ ছেড়েছিল। সাম্প্রতিক তিন বছরের তুলনায় এই সংখ্যাও কম। ইয়েদিওথ আহরোনোথের পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক, পিএইচডিধারী, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের ইসরাইল ছাড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পত্রিকাটি আরও উল্লেখ করেছে যে ইসরাইলের অর্থনীতি বড় অংশে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি খাত ও জ্ঞানভিত্তিক শিল্পে দক্ষ কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দক্ষ জনশক্তির দেশত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই গবেষণা এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ চলছে এবং একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানেও ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৬৬ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরাইলের মোট জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি।
রিপোর্টারের নাম 






















