সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ের একটি রেকর্ড। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত এডিপিতে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের হার নিম্নমুখী। ২০২১-২২ অর্থবছরে যা ছিল ৯২ শতাংশের উপরে, তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৮ শতাংশে এবং সর্বশেষ অর্থবছরে তা আরও হ্রাস পেয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের এই সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বরাবরের মতো খরচ বাড়ানোর চেষ্টা থাকলেও তা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। মূলত ২০২৪-২৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রভাবে অনেক প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এছাড়া জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং প্রকল্প পরিচালকদের ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতি হারিয়েছে।
আইএমইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং ঠিকাদারি সংক্রান্ত কিছু জটিলতার রেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলেছে। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আগামীতে বাস্তবায়নের হার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























