গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘকালীন অভিযানের সময় ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে অন্তত ২ হাজার ৫৯৬টি চালানে লাখ লাখ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে।
‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরাইল’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন কোম্পানি এই সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিল। চালানের মধ্যে ছিল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক আর্টিলারি শেল, মেশিনগানের যন্ত্রাংশ এবং ‘কামিকাজে’ ড্রোনের ওয়ারহেড। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাজার খান ইউনিসের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও এ ধরনের ভারতীয় ড্রোনের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে ভারত থেকে ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি বিস্ফোরক অর্ডন্যান্সের অংশ এবং প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি অভিযানে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গবেষকেরা আন্তর্জাতিক কাস্টমস শ্রেণিবিন্যাস বা ‘এইচএস কোড’ বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই বিষয়ে ভারত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই গবেষণা পরিচালনা করেছে এবং প্রকৃত সরবরাহের পরিমাণ এই হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















