কুমিল্লা প্রতিনিধি: ২০২৬ সালের বাংলাদেশে, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সেখানে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. মীর হোসেন মিঠুর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি জুলাই বিপ্লবের সাথে জড়িতদের ‘কথিত বিপ্লবী’ বলে অভিহিত করেছেন, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। ডা. মীর হোসেন মিঠু কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি একটি পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘সদ্য ভূমিষ্ঠ করা শিশু চিৎকার করে জানান দেয় আমি পৃথিবীতে এসেছি, আর কথিত বিপ্লবীরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে জানান দেয় আমি নেতা হতে এসেছি।’ এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ডা. মীর হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে অতীতেও কিছু অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, তার বিরুদ্ধে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি জিপ ব্যক্তিগত বা অননুমোদিত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সে সময় এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, সেই তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। এছাড়াও, তিনি কুমিল্লা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুল মতিন খসরু, প্রয়াত আবুল হাসেম খান এবং এম এ জাহেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি কুমিল্লা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ জাহেরের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। একইভাবে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তানজিন বাহার সূচীর পক্ষে প্রচারণা ও বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে তিনি জুলাই বিপ্লবীদের তিরস্কার করতে পারেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ কুমিল্লা মহানগর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক গোলাম সামদানী বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মন্তব্য অনভিপ্রেত। যারা জুলাই আন্দোলনকে অসম্মান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা. মীর হোসেন মিঠু বলেন, ‘আমি সবাইকে বলিনি। অনেক কথিত জুলাই বিপ্লবী অহেতুক চিৎকার-চেঁচামেচি করেন।’
রিপোর্টারের নাম 






















