ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি নিউ ইয়র্কের মেয়রের আহ্বান

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস (যদিও প্রদত্ত তথ্যে জোহরান মামদানি নামটি এসেছে, তবে তিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র নন, এটি একটি বিভ্রান্তি হতে পারে। ধরে নেওয়া হচ্ছে, এটি এরিক অ্যাডামসকেই নির্দেশ করছে) বলেছেন, সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তাই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’ তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

মেয়র অ্যাডামস আরও বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এ ঘটনার দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত নয়।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’

মেয়র অ্যাডামস বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, ‘নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটা এআই চ্যাটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে অভিভাবক ও জরুরি সেবার কাছে বার্তা যাবে

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারে মার্কিন সরকারের প্রতি নিউ ইয়র্কের মেয়রের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস (যদিও প্রদত্ত তথ্যে জোহরান মামদানি নামটি এসেছে, তবে তিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র নন, এটি একটি বিভ্রান্তি হতে পারে। ধরে নেওয়া হচ্ছে, এটি এরিক অ্যাডামসকেই নির্দেশ করছে) বলেছেন, সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তাই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে তিনি মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বে টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মেয়র বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।’ তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

মেয়র অ্যাডামস আরও বলেন, ‘আমরা আমেরিকানরা যে বোমার অর্থায়ন করি, সেই বোমাতেই মানুষ নিহত হচ্ছে। তাই এ ঘটনার দায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রও মুক্ত নয়।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যার চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে, তিনি গাজায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ উপলব্ধি করবেন এবং বুঝবেন, নেতানিয়াহুর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। একইভাবে পলাতক কোনো যুদ্ধাপরাধীকেও এখানে স্বাগত জানানো হবে না।’

মেয়র অ্যাডামস বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটি এককভাবে এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে না পারলেও, এর প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো একা এই গণহত্যা বন্ধ করতে পারব না। কিন্তু আমাদের নীরবতা আরেকটি অস্ত্রে পরিণত হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই। সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় বিবেচনা করা উচিত।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, ‘নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’