জামালপুরে পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামিকে ৫ লাখ টাকা এবং অপহরণ মামলার এক আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাফিজুল বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত শামীম, সাদেক ও জালাল মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করেন স্বামী হাফিজুল। ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যান। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা আমেনা বেগম বকশীগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত এবং উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত প্রধান আসামি হাফিজুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
অপর মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে জামালপুর সদর উপজেলার হরিপুর এলাকা থেকে অপহৃত হয়। পরে কিশোরীর বাবা জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে উদ্ধার করে। মামলার বিচারকালে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আদালত শামীম, সাদেক ও জালাল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জালাল মিয়াকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, উভয় মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আদালত এ রায় দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























