ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টাকা আনার কথা বলে দুই মেয়েকে ফেলে রেখে উধাও মা, পুলিশ উদ্ধার করে থানায়

দিনাজপুরের হিলিতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায়, টাকা নিয়ে আসার কথা বলে দুই মেয়েকে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে কোলের শিশুকে নিয়ে এক মা উধাও হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মায়ের দেখা না পেয়ে শিশু দুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন থানা মোড়ে। বর্তমানে সাত বছর বয়সী মিমি এবং তিন বছর বয়সী জান্নাতি হাকিমপুর থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই শিশু দুটি রাস্তার পাশে একটি ভবনের বারান্দায় বসে ছিল। তাদের মা টাকা আনার কথা বলে রেখে গেলেও দুপুর পর্যন্ত ফিরে আসেননি। তাদের কান্না শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

উদ্ধার হওয়া শিশু মিমি জানায়, ‘আম্মু টাকা নিয়ে আসবে বলে আমাদের এখানে বসিয়ে রেখে গেছে। সকাল থেকে বসে আছি, মা আর আসেনি। আমরা মায়ের কাছে যেতে চাই।’ সে আরও জানায়, তার বাবার নাম জীবন এবং মায়ের নাম শাহনাজ। স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সকাল থেকে শিশু দুটি সেখানে বসে ছিল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হলেও তাদের মা ফিরে আসেননি। খাবার কিনে দিলেও তারা কিছু খায়নি, শুধু মা-মা বলে কাঁদছিল। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বিষয়টি বুঝতে না পেরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

আরেক বাসিন্দা জোসনা বেগম বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দুই শিশুকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, তাদের মা বাসে করে চলে গেছেন। বাবার সঙ্গে ঝগড়ার কারণে তাদের রেখে গেছেন বলেও শিশুরা জানিয়েছে। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুদের বাবা মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকেন না। তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে না পেরে তাদের মা শিশু দুটিকে সেখানে রেখে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। ওসি আরও বলেন, এটি একটি মানবিক বিষয়। আমরা শিশু দুটির নানা বা দাদার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের জিম্মায় দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সন্ধানেও কাজ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনপুর-ভুলতা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই উন্নয়ন কাজ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

টাকা আনার কথা বলে দুই মেয়েকে ফেলে রেখে উধাও মা, পুলিশ উদ্ধার করে থানায়

আপডেট সময় : ১১:০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের হিলিতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায়, টাকা নিয়ে আসার কথা বলে দুই মেয়েকে রাস্তার পাশে বসিয়ে রেখে কোলের শিশুকে নিয়ে এক মা উধাও হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও মায়ের দেখা না পেয়ে শিশু দুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন থানা মোড়ে। বর্তমানে সাত বছর বয়সী মিমি এবং তিন বছর বয়সী জান্নাতি হাকিমপুর থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই শিশু দুটি রাস্তার পাশে একটি ভবনের বারান্দায় বসে ছিল। তাদের মা টাকা আনার কথা বলে রেখে গেলেও দুপুর পর্যন্ত ফিরে আসেননি। তাদের কান্না শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

উদ্ধার হওয়া শিশু মিমি জানায়, ‘আম্মু টাকা নিয়ে আসবে বলে আমাদের এখানে বসিয়ে রেখে গেছে। সকাল থেকে বসে আছি, মা আর আসেনি। আমরা মায়ের কাছে যেতে চাই।’ সে আরও জানায়, তার বাবার নাম জীবন এবং মায়ের নাম শাহনাজ। স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সকাল থেকে শিশু দুটি সেখানে বসে ছিল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পার হলেও তাদের মা ফিরে আসেননি। খাবার কিনে দিলেও তারা কিছু খায়নি, শুধু মা-মা বলে কাঁদছিল। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় বিষয়টি বুঝতে না পেরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

আরেক বাসিন্দা জোসনা বেগম বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দুই শিশুকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, তাদের মা বাসে করে চলে গেছেন। বাবার সঙ্গে ঝগড়ার কারণে তাদের রেখে গেছেন বলেও শিশুরা জানিয়েছে। খবর পেয়ে হাকিমপুর থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুদের বাবা মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকেন না। তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে না পেরে তাদের মা শিশু দুটিকে সেখানে রেখে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। ওসি আরও বলেন, এটি একটি মানবিক বিষয়। আমরা শিশু দুটির নানা বা দাদার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করে তাদের জিম্মায় দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সন্ধানেও কাজ চলছে।