ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: জেলখানা ভাঙচুর ও সংঘর্ষে শতাধিক নিহত

নরসিংদী জেলায় গত দুবছরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে ৯টি চরাঞ্চলের টেঁটাযুদ্ধ, অপরদিকে মাদকের অভয়ারণ্য ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। গত এক বছরে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় অপরাধের মাত্রা নতুন করে যোগ হয়েছে। ওই দিন জেলখানায় আগুন দিয়ে দরজা ভেঙে সাত জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৫টি হাতিয়ার ও আট হাজার ১৫টি গোলাবারুদ লুট হয়। এরপর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পাঁচ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ, ২৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং ১৬৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। এর ফলে জেলাজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানিসহ গুরুতর অপরাধের প্রবণতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিগত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার ও নারী নির্যাতনের ঘটনায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানানো হলেও সব অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেলখানা হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তৎকালীন জেলার কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতকদের মধ্যে প্রায় সাতশ কয়েদিকে কারাগারে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি উদ্ধার হলেও বাকি রয়েছে ২৬টি অস্ত্র, যার মধ্যে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নরসিংদী কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ ও জেলার কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনপুর-ভুলতা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই উন্নয়ন কাজ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি: জেলখানা ভাঙচুর ও সংঘর্ষে শতাধিক নিহত

আপডেট সময় : ১০:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নরসিংদী জেলায় গত দুবছরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। একদিকে ৯টি চরাঞ্চলের টেঁটাযুদ্ধ, অপরদিকে মাদকের অভয়ারণ্য ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। গত এক বছরে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় অপরাধের মাত্রা নতুন করে যোগ হয়েছে। ওই দিন জেলখানায় আগুন দিয়ে দরজা ভেঙে সাত জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৫টি হাতিয়ার ও আট হাজার ১৫টি গোলাবারুদ লুট হয়। এরপর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় অপরাধের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পাঁচ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ, ২৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি এবং ১৬৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। এর ফলে জেলাজুড়ে হত্যা, ছিনতাই, রাহাজানিসহ গুরুতর অপরাধের প্রবণতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিগত এক বছরে নরসিংদীতে শতাধিক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আধিপত্য বিস্তার ও নারী নির্যাতনের ঘটনায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানানো হলেও সব অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেলখানা হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তৎকালীন জেলার কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতকদের মধ্যে প্রায় সাতশ কয়েদিকে কারাগারে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি উদ্ধার হলেও বাকি রয়েছে ২৬টি অস্ত্র, যার মধ্যে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ নরসিংদী কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আবুল কালাম আজাদ ও জেলার কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে।