ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা

নাইন-ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোট ‘ওয়ার অন টেরর’ শুরু করলে দ্রুতই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটি দখল নেয় আমেরিকা। আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার সহযোগী ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আফগানিস্তানের জনগণের স্বশাসনের পক্ষে পাকিস্তানের মনোভাব প্রকাশ পাওয়ায়, আফগানিস্তান পুনর্গঠনের প্রশ্নে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। ইতিহাসে এই প্রথম ওয়াশিংটন-দিল্লি মৈত্রী তৈরি হয়। আফগানিস্তানে ‘ওয়ার অন টেরর’-এ ব্যস্ত থাকার কারণে, বাংলাদেশে ভারত উত্থাপিত কথিত জঙ্গিবাদ বিষয়ক অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আমেরিকা বাংলাদেশে ‘ওয়ার অন টেরর’-এর উপ-ঠিকাদারিত্ব ভারতকে দেয়।

এর ফলেই ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত সরকার বাংলাদেশে আসে। এরপর ভারতের রাজনীতিবিদ প্রণব মুখার্জির পৌরোহিত্যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ভারতের গণমাধ্যম এবং বাংলাদেশে ভারতের সহযোগী গণমাধ্যম দ্বারা সৃষ্ট কাল্পনিক জঙ্গিবাদ বিষয়ক ঝুঁকির নিরসনে, ভারতীয় মন্ত্রে দীক্ষিত আওয়ামী লীগকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ নামে যে জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে, তার প্রধান ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের আত্মীয় শায়খ আবদুর রহমান। এককালে সোভিয়েতবিরোধী আফগান মুজাহিদদের যুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী সিদ্দিকুর রহমান (বাংলা ভাই) ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নামের ভারতীয় ‘নেসেসারি ইলিউশন’-এর নায়ক ও পরবর্তীতে খলনায়কে পরিণত হন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেই ওই কথিত জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাহসিকতায় নির্মূল হয়। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সাহসী ভূমিকা রাখা কর্নেল গুলজার ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞে নিহত হন। এই হত্যাযজ্ঞে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ভারতীয় প্রত্নদার্শনিক চাণক্য বলেছিলেন, প্রতিবেশী শত্রুরাজ্যের অন্যদিকের রাজ্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করো, তারপর শত্রু রাজ্যকে সেখান থেকে আঘাত হানো। চিরশত্রু পাকিস্তানের অন্যদিকের দেশ আফগানিস্তানে, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষে বেশ কিছু সংখ্যক কনস্যুলেট গড়ে তোলে ভারত। আমেরিকার পৌরোহিত্যে আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ভারত সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক পাঠায়। ভারতের শিক্ষকরা অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ও নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন, ফলে আফগানিস্তানের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনপুর-ভুলতা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই উন্নয়ন কাজ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

নাইন-ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোট ‘ওয়ার অন টেরর’ শুরু করলে দ্রুতই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটি দখল নেয় আমেরিকা। আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার সহযোগী ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আফগানিস্তানের জনগণের স্বশাসনের পক্ষে পাকিস্তানের মনোভাব প্রকাশ পাওয়ায়, আফগানিস্তান পুনর্গঠনের প্রশ্নে আমেরিকা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে। ইতিহাসে এই প্রথম ওয়াশিংটন-দিল্লি মৈত্রী তৈরি হয়। আফগানিস্তানে ‘ওয়ার অন টেরর’-এ ব্যস্ত থাকার কারণে, বাংলাদেশে ভারত উত্থাপিত কথিত জঙ্গিবাদ বিষয়ক অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আমেরিকা বাংলাদেশে ‘ওয়ার অন টেরর’-এর উপ-ঠিকাদারিত্ব ভারতকে দেয়।

এর ফলেই ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত সরকার বাংলাদেশে আসে। এরপর ভারতের রাজনীতিবিদ প্রণব মুখার্জির পৌরোহিত্যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ভারতের গণমাধ্যম এবং বাংলাদেশে ভারতের সহযোগী গণমাধ্যম দ্বারা সৃষ্ট কাল্পনিক জঙ্গিবাদ বিষয়ক ঝুঁকির নিরসনে, ভারতীয় মন্ত্রে দীক্ষিত আওয়ামী লীগকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ নামে যে জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠে, তার প্রধান ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের আত্মীয় শায়খ আবদুর রহমান। এককালে সোভিয়েতবিরোধী আফগান মুজাহিদদের যুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী সিদ্দিকুর রহমান (বাংলা ভাই) ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নামের ভারতীয় ‘নেসেসারি ইলিউশন’-এর নায়ক ও পরবর্তীতে খলনায়কে পরিণত হন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেই ওই কথিত জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাহসিকতায় নির্মূল হয়। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সাহসী ভূমিকা রাখা কর্নেল গুলজার ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞে নিহত হন। এই হত্যাযজ্ঞে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।

ভারতীয় প্রত্নদার্শনিক চাণক্য বলেছিলেন, প্রতিবেশী শত্রুরাজ্যের অন্যদিকের রাজ্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করো, তারপর শত্রু রাজ্যকে সেখান থেকে আঘাত হানো। চিরশত্রু পাকিস্তানের অন্যদিকের দেশ আফগানিস্তানে, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষে বেশ কিছু সংখ্যক কনস্যুলেট গড়ে তোলে ভারত। আমেরিকার পৌরোহিত্যে আফগানিস্তান পুনর্গঠনে ভারত সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক পাঠায়। ভারতের শিক্ষকরা অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ও নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন, ফলে আফগানিস্তানের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়।