ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ২০ দিনে চীনে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করেছে ইরান

গত ১৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার পর মাত্র ২০ দিনের মধ্যে চীনকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে ইরান। তবে ৭ জুলাই পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সংক্ষিপ্ত সুযোগকে ইরানের সরকার ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছে। তারা প্রায় ২০টি ট্যাংকার জাহাজে করে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল ব্যবহার করে চীনের বিভিন্ন বন্দরে তেল পৌঁছে দিয়েছে। ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনেই ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠিয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের তেলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও কঠোর হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং বর্তমানে তারা ইরানের মোট রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায়ও ইরান দক্ষিণ চীন সাগরের ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) এলাকায় ইরানি ট্যাংকার পাঠিয়ে সেখানে থাকা চীনা ট্যাংকারে পাইপের মাধ্যমে তেল স্থানান্তর করে আসছিল। গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করে আসছে ইরান।

তবে ৭ জুলাই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের কোনো জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারছে না এবং বাইরের কোনো জাহাজও বন্দরে ঢুকতে পারছে না, যা ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর: নিট বিতর্ক ও কৃষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানী

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ২০ দিনে চীনে ৬০০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করেছে ইরান

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

গত ১৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর থেকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করার পর মাত্র ২০ দিনের মধ্যে চীনকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে ইরান। তবে ৭ জুলাই পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সংক্ষিপ্ত সুযোগকে ইরানের সরকার ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছে। তারা প্রায় ২০টি ট্যাংকার জাহাজে করে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল ব্যবহার করে চীনের বিভিন্ন বন্দরে তেল পৌঁছে দিয়েছে। ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনেই ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠিয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের তেলের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা পরবর্তী বছরগুলোতে আরও কঠোর হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং বর্তমানে তারা ইরানের মোট রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায়ও ইরান দক্ষিণ চীন সাগরের ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) এলাকায় ইরানি ট্যাংকার পাঠিয়ে সেখানে থাকা চীনা ট্যাংকারে পাইপের মাধ্যমে তেল স্থানান্তর করে আসছিল। গত কয়েক বছর ধরে এভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি করে আসছে ইরান।

তবে ৭ জুলাই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইরানের কোনো জাহাজ বন্দর ত্যাগ করতে পারছে না এবং বাইরের কোনো জাহাজও বন্দরে ঢুকতে পারছে না, যা ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।