ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের কৌশলগত দ্বৈরথ: স্কালোনি-দে লা ফুয়েন্তে মুখোমুখি

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে যখন লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামাল কিংবা দুই দলের তারকাদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন মাঠের বাইরে আরও একটি অসাধারণ গল্প আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখানে মুখোমুখি হয়েছেন এক শিক্ষক ও তাঁরই প্রাক্তন ছাত্র—স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

প্রায় নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে, স্কালোনি যখন তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মাদ্রিদের ‘লা রোজাস’ ট্রেনিং সেন্টারে প্রফেশনাল কোচিং লাইসেন্স কোর্সে ভর্তি হন। সেই কোর্সে তাঁর অন্যতম শিক্ষক ছিলেন বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ক্লাসরুমে শেখা সেই পাঠের পর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্কালোনিকে। ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পান। এরপর তিনি ইতিহাস রচনা করেছেন—২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তেও ‘লা রোজা’র চেহারা বদলে দিয়েছেন। তাঁর অধীনে স্পেন জিতেছে ২০২৪ ইউরো, খেলেছে নেশনস লিগের ফাইনাল এবং এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চেও দুই কোচের কথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বেশি ফুটে উঠেছে। নিজের সাবেক শিক্ষককে স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, “তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। কোচিং সম্পর্কে যা শিখেছি, তার অনেকটাই তাঁর কাছ থেকে। কাতার বিশ্বকাপের পর কোচদের এক সম্মেলনে আমাদের দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল। স্পেনকে তিনি যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কও বেশ গভীর। খেলোয়াড়ি জীবনের বড় একটি সময় তিনি দেশটিতে কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী এলিজা মনতেরো স্প্যানিশ, আর পরিবার নিয়ে দীর্ঘকাল মায়োর্কাতেই বসবাস করেছেন। তবুও ফাইনালের আগে আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে আর্জেন্টাইন কোচ হেসে বলেন, “সবাই জানে স্পেনে আমার পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজ আমাকে মিস্টার দে লা ফুয়েন্তেকে হারানোর জন্যই মাঠে নামতে হবে। সত্যি বলতে, এ জন্য আমি দুঃখিত।” শিষ্যের এই মন্তব্যে গর্বই প্রকাশ করেছেন দে লা ফুয়েন্তে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর: টিভির পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনঃপ্রচার

বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের কৌশলগত দ্বৈরথ: স্কালোনি-দে লা ফুয়েন্তে মুখোমুখি

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে যখন লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামাল কিংবা দুই দলের তারকাদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন মাঠের বাইরে আরও একটি অসাধারণ গল্প আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখানে মুখোমুখি হয়েছেন এক শিক্ষক ও তাঁরই প্রাক্তন ছাত্র—স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।

প্রায় নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে, স্কালোনি যখন তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মাদ্রিদের ‘লা রোজাস’ ট্রেনিং সেন্টারে প্রফেশনাল কোচিং লাইসেন্স কোর্সে ভর্তি হন। সেই কোর্সে তাঁর অন্যতম শিক্ষক ছিলেন বর্তমান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।

ক্লাসরুমে শেখা সেই পাঠের পর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্কালোনিকে। ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পান। এরপর তিনি ইতিহাস রচনা করেছেন—২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তেও ‘লা রোজা’র চেহারা বদলে দিয়েছেন। তাঁর অধীনে স্পেন জিতেছে ২০২৪ ইউরো, খেলেছে নেশনস লিগের ফাইনাল এবং এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চেও দুই কোচের কথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বেশি ফুটে উঠেছে। নিজের সাবেক শিক্ষককে স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, “তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। কোচিং সম্পর্কে যা শিখেছি, তার অনেকটাই তাঁর কাছ থেকে। কাতার বিশ্বকাপের পর কোচদের এক সম্মেলনে আমাদের দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল। স্পেনকে তিনি যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কও বেশ গভীর। খেলোয়াড়ি জীবনের বড় একটি সময় তিনি দেশটিতে কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী এলিজা মনতেরো স্প্যানিশ, আর পরিবার নিয়ে দীর্ঘকাল মায়োর্কাতেই বসবাস করেছেন। তবুও ফাইনালের আগে আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে আর্জেন্টাইন কোচ হেসে বলেন, “সবাই জানে স্পেনে আমার পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজ আমাকে মিস্টার দে লা ফুয়েন্তেকে হারানোর জন্যই মাঠে নামতে হবে। সত্যি বলতে, এ জন্য আমি দুঃখিত।” শিষ্যের এই মন্তব্যে গর্বই প্রকাশ করেছেন দে লা ফুয়েন্তে।