ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইরান সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার আরেকটি দৃষ্টান্ত?

ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় অক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ। এমনটাই মনে করেন ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডমিনিক টিয়ার্নি। সম্প্রতি এনপিআরের ‘উইকএন্ড এডিশন স্যাটারডে’ অনুষ্ঠানে ইরান ঘিরে চলমান সংঘাতের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক টিয়ার্নি বলেন, ইরান যুদ্ধ এমন এক দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে যুদ্ধে সাফল্যের জন্য সংগ্রাম করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুব কম যুদ্ধেই সত্যিকারের বিজয় অর্জন করেছে। এর পরিবর্তে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তান এবং এখন সম্ভাব্য ইরান—সব ক্ষেত্রেই দেশটি অচলাবস্থা, পরাজয় ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জড়িয়ে পড়েছে।

টিয়ার্নির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের সক্ষমতাকে ‘অতিমূল্যায়ন’ করেছে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের এই প্রচেষ্টা উল্টো ফল দিয়েছে এবং ইরানের বর্তমান সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারা রয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন না চাইলেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

টিয়ার্নি আরও বলেন, ‘মূল বিষয় হলো, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরান সরকার সম্ভবত আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি নিহত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থনের চিত্র দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ইরান শক্তিশালী হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।’ সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এর সম্ভাব্য সমাপ্তি প্রসঙ্গে টিয়ার্নি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো সাধারণত সহজ বা দ্রুত হয় না। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল, এমনকি আলোচনার টেবিলের আকার ঠিক করতেই তিন মাস ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাজিস্ট্রেটের সই-সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা: আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইরান সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার আরেকটি দৃষ্টান্ত?

আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় অক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ। এমনটাই মনে করেন ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডমিনিক টিয়ার্নি। সম্প্রতি এনপিআরের ‘উইকএন্ড এডিশন স্যাটারডে’ অনুষ্ঠানে ইরান ঘিরে চলমান সংঘাতের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তিনি।

অধ্যাপক টিয়ার্নি বলেন, ইরান যুদ্ধ এমন এক দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে যুদ্ধে সাফল্যের জন্য সংগ্রাম করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুব কম যুদ্ধেই সত্যিকারের বিজয় অর্জন করেছে। এর পরিবর্তে কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তান এবং এখন সম্ভাব্য ইরান—সব ক্ষেত্রেই দেশটি অচলাবস্থা, পরাজয় ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জড়িয়ে পড়েছে।

টিয়ার্নির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের সক্ষমতাকে ‘অতিমূল্যায়ন’ করেছে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের এই প্রচেষ্টা উল্টো ফল দিয়েছে এবং ইরানের বর্তমান সরকারের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারা রয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন না চাইলেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

টিয়ার্নি আরও বলেন, ‘মূল বিষয় হলো, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরান সরকার সম্ভবত আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি নিহত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থনের চিত্র দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ইরান শক্তিশালী হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।’ সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এর সম্ভাব্য সমাপ্তি প্রসঙ্গে টিয়ার্নি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো সাধারণত সহজ বা দ্রুত হয় না। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল, এমনকি আলোচনার টেবিলের আকার ঠিক করতেই তিন মাস ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।