ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মধুপুর জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণীর জীবন বাঁচাতে ৫ উড়াল সেতু নির্মাণ

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক মধুপুর জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। দ্রুতগামী যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই প্রাণ হারাচ্ছিল বানর, হনুমান, গন্ধগোকুলসহ গাছে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণী। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি থেকে বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করতে বন বিভাগ মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করেছে পাঁচটি উড়াল সেতু বা রোপওয়ে। এই অভিনব উদ্যোগের ফলে এখন বনের প্রাণীরা নিরাপদে সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাতায়াত করতে পারছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যানকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এই আঞ্চলিক মহাসড়ক। খাবারের সন্ধানে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে প্রাণীরা যখন সড়ক পার হতে যায়, তখনই দুর্ঘটনার শিকার হয়। চালকদের জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও অনেকেই তা মানেন না। এই সমস্যা নিরসনে গাছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে রোপওয়েগুলো, যা ব্যবহার করে বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল এবং গন্ধগোকুলের মতো প্রাণীরা এখন সহজেই মহাসড়ক অতিক্রম করতে পারছে।

স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এই মহাসড়কে চলাচল করে। দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার খেতে এসেও অনেক প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং উড়াল সেতুর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তার মতে, বর্তমানে নির্মিত পাঁচটি সেতু বনভূমির আয়তনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, আরও সেতু নির্মাণ করা গেলে পশু মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, বনের বানর, হনুমান ও নিশাচর প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের উদ্দেশ্যেই এই রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি প্রাণীদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, একসময় মধুপুরের বন প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত থাকলেও বন উজাড় ও খাদ্য সংকটের কারণে এর বিশাল অংশ বিলীন হয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশীয় চিকিৎসাসেবার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর: ‘মাকে বিদেশে নিইনি, এমন মানবিক সেবা সেখানে মিলতো না’

মধুপুর জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণীর জীবন বাঁচাতে ৫ উড়াল সেতু নির্মাণ

আপডেট সময় : ০১:২১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক মধুপুর জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। দ্রুতগামী যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই প্রাণ হারাচ্ছিল বানর, হনুমান, গন্ধগোকুলসহ গাছে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণী। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি থেকে বন্যপ্রাণীদের রক্ষা করতে বন বিভাগ মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মাণ করেছে পাঁচটি উড়াল সেতু বা রোপওয়ে। এই অভিনব উদ্যোগের ফলে এখন বনের প্রাণীরা নিরাপদে সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে যাতায়াত করতে পারছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর জাতীয় উদ্যানকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এই আঞ্চলিক মহাসড়ক। খাবারের সন্ধানে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে প্রাণীরা যখন সড়ক পার হতে যায়, তখনই দুর্ঘটনার শিকার হয়। চালকদের জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও অনেকেই তা মানেন না। এই সমস্যা নিরসনে গাছে বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে রোপওয়েগুলো, যা ব্যবহার করে বানর, হনুমান, মেছোবিড়াল এবং গন্ধগোকুলের মতো প্রাণীরা এখন সহজেই মহাসড়ক অতিক্রম করতে পারছে।

স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এই মহাসড়কে চলাচল করে। দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার খেতে এসেও অনেক প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হয়। তিনি দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং উড়াল সেতুর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তার মতে, বর্তমানে নির্মিত পাঁচটি সেতু বনভূমির আয়তনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়, আরও সেতু নির্মাণ করা গেলে পশু মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, বনের বানর, হনুমান ও নিশাচর প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের উদ্দেশ্যেই এই রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি প্রাণীদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, একসময় মধুপুরের বন প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত থাকলেও বন উজাড় ও খাদ্য সংকটের কারণে এর বিশাল অংশ বিলীন হয়ে গেছে।