মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অটোরিকশাচালক কিশোর সাকিবুল (১৬) হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একটি সিসিটিভি ফুটেজকে সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের আট দিনের মাথায় অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদকে (৩৪) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসাদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বুধবার (০৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলা শাখার পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা এলাকার বাসিন্দা সাকিবুল গত ৩০ জুন বিকেলে অসুস্থ বাবার পরিবর্তে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন (০১ জুলাই) ভোরে সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা-বাংলা বাজার সড়কের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকালে প্রাপ্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজে সাকিবুলের অটোরিকশায় ওঠা এক যাত্রীর ছবি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাই নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং সাভারের একটি হোটেলে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার দিন তিনি মিতরা স্ট্যান্ড থেকে সাকিবুলের অটোরিকশা ভাড়া করেন। বৃষ্টির মধ্যে গোলাইডাঙ্গার দিকে যাওয়ার পথে একটি ভাঙাচোরা সড়কে অটোরিকশা ঝাঁকুনি দিলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশা থামিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয় এবং তারা রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে পড়ে যান। সেখানে আসাদ সাকিবুলকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। সাকিবুল চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসাদ তার মুখ চেপে ধরে কাদার মধ্যে উপুড় করে রাখেন। এতে সাকিবুল শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ছটফট করতে থাকেন এবং পরে তার ঘাড়ে কনুই দিয়ে চাপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে আসাদ পাটক্ষেত দিয়ে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তার একটি স্যান্ডেল ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে, যা পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















