ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে ব্যাংক খাতের ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আড়ালে

উচ্চ আদালতের এক স্থগিতাদেশের কারণে ব্যাংক খাতের প্রায় এক লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকের এক হাজার ৩৭৯ জন ঋণগ্রহীতার দায়ের করা ৮৪৫টি রিটের কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়মিত ঋণের তালিকায় থাকছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঋণখেলাপিরা নিয়মিত গ্রাহকদের মতো নতুন ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিল এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করছেন, যা ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্রকে আড়ালে রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

পূর্বে ঋণখেলাপিরা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) নাম আসা ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট করতেন। যদিও ২০১৮ সালের শেষদিকে আপিল বিভাগের আদেশে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তবে ঋণখেলাপিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। তারা এখন নিম্ন আদালতে নাম তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ঘোষণামূলক মামলা করছেন এবং সেই রায় খারিজ হলে হাইকোর্টে আপিল করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিচ্ছে, যা সিআইবিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তি ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এই কৌশলের মাধ্যমে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন বিজয়ী হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারো ঋণ খেলাপি বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে। তাই, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তারা এমপি পদ হারাতে পারেন, যদি না তারা স্থগিতাদেশের মেয়াদকালে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ বছরেও ফেরেনি একজনও: অনিশ্চয়তায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে ব্যাংক খাতের ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আড়ালে

আপডেট সময় : ০৯:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

উচ্চ আদালতের এক স্থগিতাদেশের কারণে ব্যাংক খাতের প্রায় এক লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকের এক হাজার ৩৭৯ জন ঋণগ্রহীতার দায়ের করা ৮৪৫টি রিটের কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়মিত ঋণের তালিকায় থাকছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঋণখেলাপিরা নিয়মিত গ্রাহকদের মতো নতুন ঋণ, ঋণ পুনঃতফসিল এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করছেন, যা ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্রকে আড়ালে রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

পূর্বে ঋণখেলাপিরা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) নাম আসা ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট করতেন। যদিও ২০১৮ সালের শেষদিকে আপিল বিভাগের আদেশে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তবে ঋণখেলাপিরা নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন। তারা এখন নিম্ন আদালতে নাম তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ঘোষণামূলক মামলা করছেন এবং সেই রায় খারিজ হলে হাইকোর্টে আপিল করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিচ্ছে, যা সিআইবিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তি ঠেকিয়ে দিচ্ছে। এই কৌশলের মাধ্যমে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন বিজয়ী হয়েছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারো ঋণ খেলাপি বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে। তাই, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তারা এমপি পদ হারাতে পারেন, যদি না তারা স্থগিতাদেশের মেয়াদকালে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করেন।