ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা: প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স

সিলেটের প্রখ্যাত অলি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মাজার প্রাঙ্গণে থাকা দানের বিশাল তিনটি পিতলের ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একটি প্রধান দানবাক্সসহ আরও কয়েকটি ছোট দানবাক্স বসানো হয়। এই দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের এই ঐতিহাসিক মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত-অনুরাগী প্রতিদিন মাজারে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। তবে এসব দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয় এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাজারের বিদ্যমান দানবাক্সগুলোতে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলো।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার বিষয়টি উঠে আসে।

পরে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তারা তা উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে জনগণের দানের টাকা স্বচ্ছতার সাথে যথাযথ কাজে ব্যয় নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে দানের অর্থের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিট কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা: প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সিলেটের প্রখ্যাত অলি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মাজার প্রাঙ্গণে থাকা দানের বিশাল তিনটি পিতলের ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একটি প্রধান দানবাক্সসহ আরও কয়েকটি ছোট দানবাক্স বসানো হয়। এই দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের এই ঐতিহাসিক মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত-অনুরাগী প্রতিদিন মাজারে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। তবে এসব দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয় এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাজারের বিদ্যমান দানবাক্সগুলোতে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলো।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার বিষয়টি উঠে আসে।

পরে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে তারা তা উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে জনগণের দানের টাকা স্বচ্ছতার সাথে যথাযথ কাজে ব্যয় নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে দানের অর্থের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিট কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।