ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেবে: আইনমন্ত্রী

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, এই বাজেট বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অতীতে বাজেট পেশ হলে প্রায়শই ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়োলোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেট নিয়ে তেমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই বাজেট সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার ফসল, যা একদিনের চিন্তার ফল নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি দীর্ঘদিনের সুচিন্তিত পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না; উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখার কথা জানান আইনমন্ত্রী। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:২০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তার মতে, এই বাজেট বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অতীতে বাজেট পেশ হলে প্রায়শই ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়োলোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেট নিয়ে তেমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী এবং কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই বাজেট সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার ফসল, যা একদিনের চিন্তার ফল নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি দীর্ঘদিনের সুচিন্তিত পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না; উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখার কথা জানান আইনমন্ত্রী। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষা খাতের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।