ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে কোণঠাসা নেতানিয়াহু, নিজ জোটের মধ্যেই বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে ফেলেছে। একদিকে ট্রাম্পের অবস্থান এবং অন্যদিকে নিজ রাজনৈতিক জোটের কঠোর অবস্থানের মাঝে পড়ে তিনি আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিংবা লেবানন সীমান্তে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে, নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন সদস্য চুক্তিটির সমালোচনা করে একে ‘ইসরাইল এবং সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, এই সমঝোতা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে অতীতের বিষয় হিসেবে দেখতে চান। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতও বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প ইসরাইলকে লেবাননের ভেতরে সামরিক হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হিজবুল্লাহকেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

রোববার উত্তর ইসরাইলের দিকে ছোড়া হিজবুল্লাহর রকেটকে ট্রাম্প ‘খুবই ছোট এবং গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেন। যদিও নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গীরা এর কঠোর জবাব দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন, ট্রাম্প তখন ইসরাইলকে সংযত থাকার বার্তা দেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, লেবানন ইস্যুটিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হতে পারে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়ায় ইসরাইলের ওপর কী ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, ইসরাইল এই চুক্তির সরাসরি পক্ষ নয়।

এদিকে সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে দখল করে রাখা এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন মাসের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত অবস্থানের মাধ্যমে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার পথে এগোচ্ছেন, যা নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন করা যেমন কঠিন, তেমনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করাও সহজ নয়। ফলে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্ত পূরণ করলে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল পাবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে কোণঠাসা নেতানিয়াহু, নিজ জোটের মধ্যেই বাড়ছে চাপ

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে ফেলেছে। একদিকে ট্রাম্পের অবস্থান এবং অন্যদিকে নিজ রাজনৈতিক জোটের কঠোর অবস্থানের মাঝে পড়ে তিনি আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিংবা লেবানন সীমান্তে চলমান যুদ্ধ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে, নেতানিয়াহু সরকারের কয়েকজন সদস্য চুক্তিটির সমালোচনা করে একে ‘ইসরাইল এবং সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি, এই সমঝোতা ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে অতীতের বিষয় হিসেবে দেখতে চান। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতও বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প ইসরাইলকে লেবাননের ভেতরে সামরিক হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং হিজবুল্লাহকেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন।

রোববার উত্তর ইসরাইলের দিকে ছোড়া হিজবুল্লাহর রকেটকে ট্রাম্প ‘খুবই ছোট এবং গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেন। যদিও নেতানিয়াহুর জোটসঙ্গীরা এর কঠোর জবাব দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন, ট্রাম্প তখন ইসরাইলকে সংযত থাকার বার্তা দেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, লেবানন ইস্যুটিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি সমঝোতার অংশ হতে পারে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়ায় ইসরাইলের ওপর কী ধরনের প্রত্যাশা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, ইসরাইল এই চুক্তির সরাসরি পক্ষ নয়।

এদিকে সোমবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে দখল করে রাখা এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী সরে যাবে না। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন মাসের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত অবস্থানের মাধ্যমে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার পথে এগোচ্ছেন, যা নেতানিয়াহুর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন করা যেমন কঠিন, তেমনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করাও সহজ নয়। ফলে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।