রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো সেখানে ১৫২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও অধিকাংশ রোগী হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তবে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর স্বজনদের আশঙ্কা, স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে রোগীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং সীমিত পরিসরে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে কিছু সেবা সীমিত আকারে চালু থাকলেও সেখানে কোনো ব্যস্ততা নেই। হাসপাতালটি অনেকটাই ফাঁকা এবং এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না এবং জরুরি বিভাগের সেবাও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে, গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের ফটকের সামনে কিছু রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে রোগী, স্বজন এবং কর্মচারীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্যের অভাবে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ছাড়পত্র নিয়ে কিছু রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এছাড়া, অনেক রোগী তাদের ফলোআপের নির্ধারিত তারিখ থাকায় হাসপাতালে এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোগীর স্বজন ও সেবাপ্রার্থীরা জানান, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আদ-দ্বীন হাসপাতাল গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা ছয় নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানালেও, হাসপাতাল বন্ধের বিরোধিতা করেছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোট ১৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (সিসিইউ) ৪৮ জন, আইসিইউ ও এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) সাতজন এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চারজন রোগী ভর্তি আছেন। এর আগে মোট রোগী ভর্তি ছিল ২৩৪ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক মারা যায়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।
রিপোর্টারের নাম 



















