ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

তারুণ্যের মানবিক আলো: সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায় ‘যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন’

শহরের ব্যস্ত জনপথে প্রতিদিন কত মুখই তো চোখে পড়ে—কেউ ফুটপাতে রাত কাটায়, কেউ খাবারের আশায় বসে থাকে, আবার কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে রাস্তাকেই আশ্রয় করে। এই মানুষগুলোর পাশ দিয়ে অসংখ্য পথচারী হেঁটে যায়; কেউ হয়তো এক পলক তাকায়, কেউবা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। এমন এক আত্মকেন্দ্রিক সমাজে যখন স্বার্থপরতার দেওয়ালগুলো ক্রমশ উঁচু হচ্ছে, ঠিক তখনই একদল তরুণ ব্যতিক্রমী এক গল্পের জন্ম দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে, কেবল বুকভরা ভালোবাসা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়েও সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব, যেখানে অঢেল অর্থের প্রয়োজন হয় না।

টাঙ্গাইলের মাটি থেকে যে মানবিক স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা দেশের ৩২টি জেলায় ডানা মেলেছে। এটি নিছক কোনো সংগঠন নয়, বরং সংকটের অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এক মশাল, যা একঝাঁক তরুণের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আলো ছড়াচ্ছে। প্রায় দেড় দশক আগে, ২০১১ সালে তরুণ সমাজকর্মী মুঈদ হাসান সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চোখে আলোর স্বপ্ন বুনে দেওয়ার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু সংগঠন ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’। একই সময়ে শুরু হয় ‘স্বপ্নপুরী’ নামের একটি ভিন্নধর্মী স্কুল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল—যেসব শিশুর হাতে বই থাকার কথা ছিল কিন্তু জীবনের রূঢ় বাস্তবতায় তারা ঝরে পড়েছে, তাদের আবার অক্ষরের আলোয় ফিরিয়ে আনা। একটি ছোট ঘর, একমুঠো স্বপ্ন আর মানুষের জন্য কিছু করার অদম্য জেদ—এই তিনের রসায়নেই ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন’।

মানুষের জীবনে হয়তো সবচেয়ে বড় কষ্ট অভাব নয়, বরং একাকিত্ব। যখন অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন, পরিচয়হীনতার কারণে যাকে কেউ হাসপাতালে নিতে চায় না, তখন তার পাশে দাঁড়ানোটা মানবতার কঠিনতম পরীক্ষাগুলোর একটি। এই পরীক্ষায় বারবার নিজেদের উত্তীর্ণ করেছে এই সংগঠন। অজ্ঞাত, বেওয়ারিশ ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, এমনকি মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের দায়িত্বও তারা নিষ্ঠার সাথে পালন করছে।

সমাজে সবচেয়ে নীরব কান্নাগুলোর একটি হয়তো বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের। যে সন্তানদের হাত ধরে একদিন তারা বড় হন, অনেক সময় তারাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবহেলার শিকার হন। রাস্তার পাশে থাকা এমন বৃদ্ধদের চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমেও নিয়মিত পৌঁছে যাচ্ছে সংগঠনটির মানবিক উদ্যোগ। এই ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

তারুণ্যের মানবিক আলো: সুবিধাবঞ্চিতদের সেবায় ‘যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন’

আপডেট সময় : ০১:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

শহরের ব্যস্ত জনপথে প্রতিদিন কত মুখই তো চোখে পড়ে—কেউ ফুটপাতে রাত কাটায়, কেউ খাবারের আশায় বসে থাকে, আবার কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে রাস্তাকেই আশ্রয় করে। এই মানুষগুলোর পাশ দিয়ে অসংখ্য পথচারী হেঁটে যায়; কেউ হয়তো এক পলক তাকায়, কেউবা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। এমন এক আত্মকেন্দ্রিক সমাজে যখন স্বার্থপরতার দেওয়ালগুলো ক্রমশ উঁচু হচ্ছে, ঠিক তখনই একদল তরুণ ব্যতিক্রমী এক গল্পের জন্ম দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে, কেবল বুকভরা ভালোবাসা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়েও সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব, যেখানে অঢেল অর্থের প্রয়োজন হয় না।

টাঙ্গাইলের মাটি থেকে যে মানবিক স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা দেশের ৩২টি জেলায় ডানা মেলেছে। এটি নিছক কোনো সংগঠন নয়, বরং সংকটের অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এক মশাল, যা একঝাঁক তরুণের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আলো ছড়াচ্ছে। প্রায় দেড় দশক আগে, ২০১১ সালে তরুণ সমাজকর্মী মুঈদ হাসান সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের চোখে আলোর স্বপ্ন বুনে দেওয়ার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন শিশু সংগঠন ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’। একই সময়ে শুরু হয় ‘স্বপ্নপুরী’ নামের একটি ভিন্নধর্মী স্কুল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল—যেসব শিশুর হাতে বই থাকার কথা ছিল কিন্তু জীবনের রূঢ় বাস্তবতায় তারা ঝরে পড়েছে, তাদের আবার অক্ষরের আলোয় ফিরিয়ে আনা। একটি ছোট ঘর, একমুঠো স্বপ্ন আর মানুষের জন্য কিছু করার অদম্য জেদ—এই তিনের রসায়নেই ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘যুবদের জন্য ফাউন্ডেশন’।

মানুষের জীবনে হয়তো সবচেয়ে বড় কষ্ট অভাব নয়, বরং একাকিত্ব। যখন অসুস্থ শরীর নিয়ে কেউ রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন, পরিচয়হীনতার কারণে যাকে কেউ হাসপাতালে নিতে চায় না, তখন তার পাশে দাঁড়ানোটা মানবতার কঠিনতম পরীক্ষাগুলোর একটি। এই পরীক্ষায় বারবার নিজেদের উত্তীর্ণ করেছে এই সংগঠন। অজ্ঞাত, বেওয়ারিশ ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, এমনকি মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের দায়িত্বও তারা নিষ্ঠার সাথে পালন করছে।

সমাজে সবচেয়ে নীরব কান্নাগুলোর একটি হয়তো বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের। যে সন্তানদের হাত ধরে একদিন তারা বড় হন, অনেক সময় তারাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অবহেলার শিকার হন। রাস্তার পাশে থাকা এমন বৃদ্ধদের চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমেও নিয়মিত পৌঁছে যাচ্ছে সংগঠনটির মানবিক উদ্যোগ। এই ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা এবং সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা।