ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র মহড়া: দুদিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ, জনমনে উদ্বেগ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার দুদিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত শুক্রবার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে একদল কিশোর দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে শক্তি প্রদর্শনমূলক মহড়া দেয়। তারা দলবদ্ধভাবে মাঠে অবস্থান করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। উপস্থিত অনেকেই এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্রে অস্ত্র হাতে মহড়ায় অংশ নেওয়া প্রায় সবার চেহারা ও পরিচয় স্পষ্টভাবে বোঝা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলার পৌর এলাকার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত হলেও কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। এর আগে, গত বুধবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অগ্রিম ঘোষণা দিয়েছিল, যা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কথাও স্বীকার করেছিল। তারপরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ জনগণের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব গ্যাং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র মহড়া: দুদিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ, জনমনে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০১:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার দুদিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত শুক্রবার আনন্দ পাইলট স্কুল মাঠে একদল কিশোর দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্রসদৃশ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে শক্তি প্রদর্শনমূলক মহড়া দেয়। তারা দলবদ্ধভাবে মাঠে অবস্থান করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। উপস্থিত অনেকেই এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্রে অস্ত্র হাতে মহড়ায় অংশ নেওয়া প্রায় সবার চেহারা ও পরিচয় স্পষ্টভাবে বোঝা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে পুলিশের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলার পৌর এলাকার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত হলেও কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। এর আগে, গত বুধবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অগ্রিম ঘোষণা দিয়েছিল, যা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কথাও স্বীকার করেছিল। তারপরও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার না করায় সাধারণ জনগণের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এসব গ্যাং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারি ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।