ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ছয় কার্যদিবসে রায়: রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

দেশের বিচার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দ্রুততম সময়ে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামিকে যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দেশের ইতিহাসে এমন দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যার মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার রায় দেওয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করে, তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে ছিল গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়। দুই আসামিকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়ার এই অভিযোগের প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা কেবল একটি পরিবারকেই নয়, সমগ্র সমাজকেই মর্মাহত করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

ছয় কার্যদিবসে রায়: রামিসা হত্যায় প্রধান আসামি দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

দেশের বিচার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দ্রুততম সময়ে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই আসামিকে যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রামিসার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দেশের ইতিহাসে এমন দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যার মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার রায় দেওয়া বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত। তিনি আরও জানান, মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করে, তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে ছিল গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়। দুই আসামিকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই মামলাটি কেবল একটি ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি সমাজের বিবেক, মানবতা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি এক গভীর পরীক্ষা। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়ার এই অভিযোগের প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ। যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা বা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা কেবল একটি পরিবারকেই নয়, সমগ্র সমাজকেই মর্মাহত করে।