ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

‘ককরোচ পার্টি’র উত্থানে মোদি-বিজেপি শিবিরে উদ্বেগ, তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন মাত্রা

ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থানহীনতা ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি গভীর অসন্তোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গধারার জন্ম দিয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই কাল্পনিক সংগঠনটি, যা ‘তেলাপোকা পার্টি’ নামেও পরিচিতি লাভ করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বেকারত্ব ও শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক অনিয়মে হতাশ যুবকদের সমর্থনপুষ্ট এই উদ্যোগটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অভাবনীয় উত্থান রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই তৈরি করেছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও বিচারপতি পরে জানান যে তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ততক্ষণে ক্ষুব্ধ তরুণদের প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই ক্ষোভকে একটি প্রতীকে রূপ দেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নামে একটি ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। সেখানে অবহেলিত, বেকার ও হতাশ তরুণদের পক্ষে কণ্ঠস্বর তোলার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং এটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনলাইন জনপ্রিয়তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে যখন অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মাথায় তেলাপোকার মুখোশ পরে এবং হাতে ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত হন। এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে অনলাইন সমর্থন বাস্তব রাজনৈতিক জমিনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, অথচ দেশের নীতিনির্ধারকদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বয়সও ৭৫। এই প্রজন্মগত ব্যবধান রাজনীতির সঙ্গে তরুণ সমাজের দূরত্ব আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

‘ককরোচ পার্টি’র উত্থানে মোদি-বিজেপি শিবিরে উদ্বেগ, তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন মাত্রা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থানহীনতা ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি গভীর অসন্তোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গধারার জন্ম দিয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত এই কাল্পনিক সংগঠনটি, যা ‘তেলাপোকা পার্টি’ নামেও পরিচিতি লাভ করেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বেকারত্ব ও শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক অনিয়মে হতাশ যুবকদের সমর্থনপুষ্ট এই উদ্যোগটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের ফলোয়ার সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অভাবনীয় উত্থান রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই তৈরি করেছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও বিচারপতি পরে জানান যে তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ততক্ষণে ক্ষুব্ধ তরুণদের প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে এই ক্ষোভকে একটি প্রতীকে রূপ দেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নামে একটি ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। সেখানে অবহেলিত, বেকার ও হতাশ তরুণদের পক্ষে কণ্ঠস্বর তোলার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং এটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনলাইন জনপ্রিয়তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে যখন অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মাথায় তেলাপোকার মুখোশ পরে এবং হাতে ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত হন। এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে অনলাইন সমর্থন বাস্তব রাজনৈতিক জমিনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, অথচ দেশের নীতিনির্ধারকদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বয়সও ৭৫। এই প্রজন্মগত ব্যবধান রাজনীতির সঙ্গে তরুণ সমাজের দূরত্ব আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।