ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জ: ছয় লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত?

প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সরকারের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিবারই দেখা যায়, ঘোষিত লক্ষ্য এবং প্রকৃত অর্জনের মধ্যে বিশাল এক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য এই লক্ষ্য পূরণ করা দীর্ঘদিনের একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এনবিআরের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সংস্কারের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে।

এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে, যা চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআরকে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের ভার দেওয়া হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, করভিত্তি সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না ফিরলে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারকে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর ত্রাস: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ

রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জ: ছয় লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত?

আপডেট সময় : ১০:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রতি বছর বাজেট ঘোষণার সময় বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সরকারের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিবারই দেখা যায়, ঘোষিত লক্ষ্য এবং প্রকৃত অর্জনের মধ্যে বিশাল এক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য এই লক্ষ্য পূরণ করা দীর্ঘদিনের একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার কারণে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। এনবিআরের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সংস্কারের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে।

এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় সাত লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে, যা চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআরকে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের ভার দেওয়া হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, করভিত্তি সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি না ফিরলে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারকে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।