জনপ্রিয় প্রবাদ ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’ যেন বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের অবস্থার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। একসময় যারা রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, আজ তাদের অনেকেই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন—কে কত বেশি নির্দোষ, কে কত কম জানতেন, আর কে কত দূরে ছিলেন সেই বহুল আলোচিত ‘কিচেন কেবিনেট’ থেকে, তা প্রমাণ করার জন্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন জমা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা, মবতন্ত্রের উত্থান, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে একটি অদৃশ্য ক্ষমতাকেন্দ্রের অস্তিত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের ভেতরে একটি ছোট বলয় ছিল, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।’ এরপর একে একে অনেকেই জানাতে শুরু করেছেন—তাঁরা সেই বলয়ের অংশ ছিলেন না।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আসিফ মাহমুদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, এমনকি তৌহিদ হোসেন নিজেও দাবি করেছেন যে, তাঁরা সেই কিচেন কেবিনেটের সদস্য ছিলেন না বা বিষয়টি জানতেন না। অন্যরাও বিভিন্নভাবে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ কেউ আবার এমন কিচেন কেবিনেটের অস্তিত্বই অস্বীকার করছেন।
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে। যদি সবাই বাইরে থাকেন, তাহলে ভেতরে ছিলেন কারা? যদি কেউই কিছু না জানেন, তাহলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কে নিলো? যদি কেউই দায়িত্বশীল না হন, তবে কে দায় নেবে?
রিপোর্টারের নাম 























