দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো, অর্থাৎ নবম জাতীয় পে-স্কেল, আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগলেও নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও আসবেন। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় ধরনের সুখবর; বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিতে বেতন বৈষম্য কমানোর তাগিদেই সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। তবে এর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা সামাল দিতে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে নবম পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাবেন।
সর্বশেষ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ২০১৫ সালে কার্যকর হয়েছিল। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 


















