সমাজে ভিন্নমত পোষণ করাকে এখন শত্রুতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ। প্রশ্ন তোলার অধিকার বা ভিন্নভাবে চিন্তা করার স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। মানুষ একে অপরের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আলোচনা করার পরিবর্তে একে অপরকে চিহ্নিত করছে এবং রাজনৈতিক বিভাজনের শিকার বানাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তা এক গভীর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতীতে মতের ভিন্নতা থাকলেও মানুষ একে অপরের সঙ্গে আলোচনা, তর্ক ও বিতর্কে লিপ্ত হতো, কিন্তু সম্পর্ক বজায় রাখত। বর্তমানে সেই সুস্থ পরিবেশ আর নেই। যে কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে বা ভিন্নভাবে চিন্তা করলে, তার উদ্দেশ্য সৎ হলেও আক্রমণ নেমে আসে। তাকে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়, যেন ব্যক্তি নয়, সে কেবলই একটি দলের প্রতিনিধি। যদিও অনেকে আশা করেছিলেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজনীতির ভাষায় ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সহনশীলতার পরিবেশ ফিরে আসবে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ক্ষমতা বদলালেও রাজনীতির মনস্তত্ত্ব বদলায়নি, একই ধরনের প্রতিহিংসা ও আক্রমণাত্মক ভাষা অব্যাহত রয়েছে, কেবল মুখের পরিবর্তন হয়েছে।
আমরা কি কেবল একটি রাজনৈতিক চক্রে আটকে আছি, যেখানে এক দল অন্য দলকে দমন করবে এবং ক্ষমতা বদলের পর একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই সংস্কৃতি আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি বা মানবিক বিপর্যয় নিয়ে সমালোচনা করলেই প্রথমেই দেখা হয় ব্যক্তিটি কোন পক্ষের। শিশুর মৃত্যু নিয়ে কথা বললে তাকে কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়, আবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখলে তাকে অন্য পক্ষের প্রচারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সম্প্রতি হাম রোগে বহু শিশুর মৃত্যুর ঘটনা আমাদের সমাজের এই অসাড়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যেখানে গভীর শোক, প্রশ্ন উত্থাপন এবং দায়বদ্ধতা খোঁজা উচিত ছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে কেবল ঠাট্টা, বিদ্রূপ এবং রাজনৈতিক খোঁচাখুঁচি। যারা এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, তাদেরও ট্যাগিং এবং বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। পাঁচশোর বেশি শিশুর মৃত্যু একটি জাতীয় সংকট, কিন্তু অন্য কোনো দেশে এমন ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া হতো, তার সঙ্গে তুলনা করলে আমাদের সমাজের এই অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক।
রিপোর্টারের নাম 



















