ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

প্রাচীন শিকার কৌশলকে বাঁচিয়ে রাখতে চীনের বাজপাখি উৎসব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আকছি কাউন্টিতে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য বাজপাখি সংস্কৃতি উৎসব। স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই জমকালো আয়োজন দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

আকছি কাউন্টি দীর্ঘকাল ধরে বাজপাখি পালনের এক প্রাচীন ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশেষ করে স্থানীয় কিরগিজ জনগোষ্ঠীর শত বছরের পুরনো ‘ফ্যালকনরি’ বা বাজপাখি শিকারের প্রাচীন কৌশলকে টিকিয়ে রাখতেই মূলত এই আয়োজন। তিন দিনব্যাপী চলা এই উৎসবের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিতে শুরু হয়েছে চতুর্থ “ফ্যালকন কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম সিজন”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি বিশেষ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে স্থানীয় সূচিশিল্প তুলে ধরার পাশাপাশি ঘোড়া ও উটের পিঠে চড়ে প্রাচীন অশ্বারোহী সংস্কৃতির এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী করা হয়।

উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল স্থানীয় বীরগাথা মহাকাব্য ‘মানাস’ – এর সমবেত পরিবেশনা। পাশাপাশি কিরগিজদের তিন তারের ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাদ্যযন্ত্র ‘কুমুজ’ – এর সুরে সুরে পরিবেশিত হয় লোকসংগীত ও প্রাচীন রূপকথা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এবং এই অনন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন।

কুয়াংতোং প্রদেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক লুও সিনপেং বলেন, “এখানকার মানুষ খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। আর বাজপাখির এই উৎসব ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলো সত্যিই অসাধারণ, যা আগে কখনও দেখিনি।”

রঙিন এই উৎসবে আরও ছিল চীনের অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রদর্শনী, লোকজ অভিজ্ঞতাভিত্তিক নানা কার্যক্রম এবং রোমাঞ্চকর সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এই উৎসবের হাত ধরেই সিনচিয়াংয়ের পর্যটন খাতে বইছে নতুন হাওয়া।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

প্রাচীন শিকার কৌশলকে বাঁচিয়ে রাখতে চীনের বাজপাখি উৎসব

আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আকছি কাউন্টিতে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য বাজপাখি সংস্কৃতি উৎসব। স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই জমকালো আয়োজন দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

আকছি কাউন্টি দীর্ঘকাল ধরে বাজপাখি পালনের এক প্রাচীন ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশেষ করে স্থানীয় কিরগিজ জনগোষ্ঠীর শত বছরের পুরনো ‘ফ্যালকনরি’ বা বাজপাখি শিকারের প্রাচীন কৌশলকে টিকিয়ে রাখতেই মূলত এই আয়োজন। তিন দিনব্যাপী চলা এই উৎসবের মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিতে শুরু হয়েছে চতুর্থ “ফ্যালকন কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম সিজন”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি বিশেষ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে স্থানীয় সূচিশিল্প তুলে ধরার পাশাপাশি ঘোড়া ও উটের পিঠে চড়ে প্রাচীন অশ্বারোহী সংস্কৃতির এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী করা হয়।

উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল স্থানীয় বীরগাথা মহাকাব্য ‘মানাস’ – এর সমবেত পরিবেশনা। পাশাপাশি কিরগিজদের তিন তারের ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাদ্যযন্ত্র ‘কুমুজ’ – এর সুরে সুরে পরিবেশিত হয় লোকসংগীত ও প্রাচীন রূপকথা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা এবং এই অনন্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন।

কুয়াংতোং প্রদেশ থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক লুও সিনপেং বলেন, “এখানকার মানুষ খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। আর বাজপাখির এই উৎসব ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলো সত্যিই অসাধারণ, যা আগে কখনও দেখিনি।”

রঙিন এই উৎসবে আরও ছিল চীনের অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রদর্শনী, লোকজ অভিজ্ঞতাভিত্তিক নানা কার্যক্রম এবং রোমাঞ্চকর সব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এই উৎসবের হাত ধরেই সিনচিয়াংয়ের পর্যটন খাতে বইছে নতুন হাওয়া।