অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটের বাইরে, অর্থাৎ সরকারের ভেতরে আরেকটি সরকার ‘কিচেন কেবিনেট’-এর মাধ্যমে হতো বলে উল্লেখ করেছেন সেই সরকারের তিনজন উপদেষ্টা। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, কারা ছিলেন সেই কেবিনেটের সদস্য, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন এবং যাদের কথায় সরকার চলতো।
এ বিষয়ে প্রথম মুখ খোলেন শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন এবং জানান যে তিনি এই কেবিনেটের বিষয়ে জানতেন না, কিন্তু সেখানে বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো হতো। এরপর তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও একই কথা বলেন এবং জানান, এই কেবিনেট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সহ নীতিনির্ধারণী সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তিনি জানতেন না। এর একদিন পর আরেক সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এতে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। এই পরিস্থিতিতে আলোচিত ‘কিচেন কেবিনেট’-এ কারা ছিলেন তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “আমি সাধারণভাবে দেখছি, তখনকার অনেক উপদেষ্টা দায় এড়াতে চাচ্ছেন। অথচ ড. ইউনূস তো বলছেন, তিনি টিমওয়ার্ক করেই কাজ করেছেন। আমি মনে করি, তাদের সব কর্মকাণ্ডের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।” তাদের কার কী ভূমিকা ছিল, তা আলাদাভাবে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
‘কিচেন কেবিনেট’ হলো কোনও সরকারের অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রী বা উপদেষ্টা, পরামর্শক বা নিকটজন— যারা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কিংবা নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারাই মূলত সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এবং সরকার তাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখে। রাষ্ট্রের সংবেদনশীল বিষয়, বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের প্রধান নির্বাহী কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের কিচেন কেবিনেটে প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত পছন্দের কিছু উপদেষ্টা ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক তিন উপদেষ্টা। শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই আলোচনা শুরু হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















