বাংলাদেশের রাজনীতিতে সদ্য আলোচিত তরুণ নেতাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছেন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ওপর ধারাবাহিক হামলা, ডিম নিক্ষেপ এবং তাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ঝিনাইদহে তার ওপর হওয়া হামলা ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহলে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – কেন বারবার তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে? এর পেছনে কি কোনো গভীর কারণ নিহিত আছে?
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বর্তমান সরকারের পতনের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার দল এনসিপি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ সমালোচনা ভোটারসহ দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বিভিন্ন জেলা সফর ও রাজনৈতিক সভায় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সালাহউদ্দিন আহমদের মতো শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই ধরনের মন্তব্য দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তাদের অভিযোগ, পাটওয়ারী ‘কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য’ দিচ্ছেন, যা ঝিনাইদহে তার সরাসরি ‘জনরোষ’ বা হামলার শিকার হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়েছিলেন, যা বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের চেয়ে মাত্র ৫ হাজার ২৩৯ ভোট কম ছিল। পাটওয়ারীর অভিযোগ, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। প্রথম নির্বাচনেই একজন তরুণ প্রার্থীর এমন শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বয়ং মির্জা আব্বাসও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, “তারা এত ভোট কীভাবে পেলো।” রাজনৈতিক ক্ষমতার এই সরাসরি দ্বন্দ্ব এবং ভোটের মাঠের রেষারেষি তাকে প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















