ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে আরও বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ বা কার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আইডি কার্ডের পরিকল্পনা।
গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এটি একটি ডিজিটাল ডেটাবেজভিত্তিক স্মার্ট কার্ড, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবার সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং সরাসরি নগদ সহায়তা পাবে। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের অর্থনৈতিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্ড মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের নারীদের জন্য প্রযোজ্য, যেখানে ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যযুক্ত পরিবার, হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পরিবারে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যকে বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং পরিবারের প্রধান নারী বা মা কার্ডধারী হবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী, নিয়মিত পেনশনভোগী, বিলাসবহুল সম্পদের মালিক বা বড় ব্যবসায়ীরা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। কার্ডধারী পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা সরাসরি পাবে এবং পাশাপাশি কম দামে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও চিনি কেনার সুযোগও পাবে।
দেশের কৃষকদের জন্য পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ মোট ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। পহেলা বৈশাখ (২১ এপ্রিল) প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করা হয়। পিওএস মেশিন ব্যবহার করে কৃষকেরা সরাসরি সার, বীজ, খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।
দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা ব্যাংকিং সুবিধা, আয়ের স্বীকৃতি এবং আনুষ্ঠানিক সহায়তা লাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















