চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের কাছে ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এখানে রাষ্ট্রীয় আইনের চেয়েও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বেশি কার্যকর। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা বিশাল অবৈধ বসতি, প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্যের কারণে এলাকাটি কার্যত একটি বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পরও এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের দাপট থামছে না।
সর্বশেষ ঘটনায় গত রবিবার গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে পাশের নির্মাণাধীন আরেকটি ক্যাম্পও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য শেষ হয়েছে?
জানা গেছে, রবিবার রাত প্রায় ১টার দিকে সীতাকুণ্ডের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্বরত র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি টিনের ঘর থেকে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গোলাগুলির মধ্যেই সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশের নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সেখানে থাকা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এই ক্যাম্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল এবং আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটির উদ্বোধনের কথা ছিল। হামলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগেও জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল অভিযানে গেলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন এবং আরও তিন সদস্য আহত হন। এসব ঘটনা জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের শক্তিশালী অবস্থানকেই বারবার তুলে ধরছে।
রিপোর্টারের নাম 





















