ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় রণক্ষেত্র বাকলিয়া: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, এপিবিএন ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ভবনের সিঁড়িঘরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের খবর জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে গভীর রাতে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় রণক্ষেত্র বাকলিয়া: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, থমথমে পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, এপিবিএন ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ভবনের সিঁড়িঘরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের খবর জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতককে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে গভীর রাতে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।