রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। রামিসার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ফুটফুটে মেয়েটিকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি কিছুতেই থামছে না। মেয়ের স্মৃতিতে ভরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
রামিসা মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী রামিসার রোল নম্বর ছিল এক। প্লে ও কেজিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর প্রথম শ্রেণিতে সে প্রথম হয়েছিল। মেয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি রামিসার বাবা। সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। তার কান্নায় পুরো শ্রেণিকক্ষে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রামিসার সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ‘রামিসাকে কখনও ভোলা যাবে না।’ তারা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলে, ‘খুনির যেন কোনোভাবেই ছাড় না হয়।’
এদিকে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা পল্লবী এলাকায় ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা অবিলম্বে এই জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার বাবা বলেন, ‘আমার একটা হৃদপিণ্ড ছিল রামিসা, সেটাই আল্লাহ নিয়ে গেছে। গত পরশুদিন ও বললো— বাবা, আমাকে একটা বোরকা কিনে দাও। আমার চাচাতো ভাই বললো তিন থেকে চারশ’ টাকায় পাওয়া যাবে, কিন্তু আমি এক হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে বোরকা এনে দিয়েছি। আমার পরনের স্যান্ডেলটা তিন বছরের পুরোনো, ছেঁড়া। সেলাই করে পরি, তাও পাল্টাই না। কিন্তু আমার বাচ্চাদের আমি কখনও কষ্ট পেতে দেই না। মোবাইলে আমার মেয়ের অন্তত ৫০০ ছবি আছে, কিন্তু এখনও আমার সাহস হয়নি মেয়ের একটা ছবি বের করে দেখার। আমি দরিদ্র, ভাঙা বাসায় থাকি, কিন্তু আমার সন্তানদের কখনও দারিদ্র্যের স্বাদ পেতে দেইনি।’
রামিসার ক্লাস টিচার মাহবুবুল হাকিম বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্লাস সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত চলে। রামিসা সবসময়ই ১০ মিনিট আগে স্কুলে চলে আসতো। সেদিন না আসায় চিন্তায় ছিলাম। পরে শুনি তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয় বলেও জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 






















