ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দুদিন আগেও যে ঘরে হাসি, পড়াশোনা আর বাবার জন্য অপেক্ষার দিন কাটাতো ছোট্ট রামিসা, আজ সেই ঘর শোকে আচ্ছন্ন। এমন নির্মম ঘটনার পর রামিসার বাবা বিচার প্রাপ্তি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
রামিসার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমাজে শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান নৃশংসতার এক ভয়াবহ বাস্তবতা আবার সামনে এসেছে। গত দশ দিনে অন্তত চারটি শিশু ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সামাজিক, আইনি ও মানসিক সংকটের সম্মিলিত প্রতিফলন।
স্বজনরা জানান, গত সপ্তাহে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মা পাশের ফ্ল্যাটে রামিসার উপস্থিতির সন্দেহ করলে, পরদিন সকালে স্বজনদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হয় এবং দরজা ভেঙে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীর টুকরা করারও চেষ্টা চলছিল। মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত সোহেল রানা এরইমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছেন, অভিযুক্তের আচরণ বিকৃত যৌন প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, মাদক সেবন, অপরাধ প্রবণতা এবং নৈতিক মূল্যবোধের অভাবের কারণেই সমাজে এমন জঘন্য অপরাধ বাড়ছে। এছাড়া যথাযথ আইনের প্রয়োগ না হওয়ার কারণেও এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনের প্রয়োগ দুর্বল হলে কিংবা কেউ নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবলে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে শক্তিশালী ব্যক্তিগত মূল্যবোধ থাকলে সুযোগ থাকলেও অনেক মানুষ অপরাধ থেকে বিরত থাকে। একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে অভিযুক্ত সৎ মামাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















