ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজধানীতে প্রবাসীর আট টুকরা মরদেহ: প্রেম ও টাকা লেনদেনের জেরে চাঞ্চল্যকর খুন

রাজধানীর মান্ডায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর আট টুকরা করে মরদেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনার পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার প্রধান আসামি হেলেনা বেগম এবং তার কিশোরী মেয়েকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য সামনে আনল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহতের নাম মোকাররম, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি প্রবাসী সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার (৩১) সঙ্গে মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সৌদি আরবে থাকাকালীন সুমনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গভীর হয়। মোকাররম প্রবাসে থাকাকালীন তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখেরও বেশি টাকা পাঠান।

গত ১৩ মে সৌদি প্রবাসী মোকাররম দেশে ফেরেন এবং তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে তার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের ভাড়াবাসা মান্ডা এলাকায় আসেন। হেলেনা তার দুই মেয়েসহ ওই এক রুমের বাসায় ভাড়া থাকেন। রাতে ওই বাসায় হেলেনার সঙ্গে তাসলিমা, মোকাররম এবং হেলেনার দুই মেয়ে একই রুমে ঘুমান।

হেলেনার ভাষ্যমতে, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার মনমালিন্য হওয়ায় মোকাররম হেলেনার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করেন। বিষয়টি হেলেনা দেখে ফেলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই রাতে তাসলিমা ও মোকাররমের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা নিয়ে ঝগড়া লাগে। মোকাররম বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তাসলিমা তাকে দেওয়া ৫ লক্ষাধিক টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত দিতে না পারলে মোবাইলে ধারণ করা তাসলিমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মোকাররম।

এই বিবাদ থেকে তাসলিমা হেলেনাকে সঙ্গে নিয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মেয়ের সঙ্গে মোকাররমের অপকর্মের চেষ্টার ক্ষোভ থেকে হেলেনা এই প্রস্তাবে রাজি হন বলে তিনি জানান। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন অর্থাৎ ১৪ মে সকাল বেলা নাস্তার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্বোধনের আগেই লোহাগাড়ায় সেতু সংযোগ সড়ক ধসে স্থানীয়দের উদ্বেগ

রাজধানীতে প্রবাসীর আট টুকরা মরদেহ: প্রেম ও টাকা লেনদেনের জেরে চাঞ্চল্যকর খুন

আপডেট সময় : ০৯:১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

রাজধানীর মান্ডায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর আট টুকরা করে মরদেহ লুকিয়ে রাখার ঘটনার পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনার প্রধান আসামি হেলেনা বেগম এবং তার কিশোরী মেয়েকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য সামনে আনল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহতের নাম মোকাররম, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। একই গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি প্রবাসী সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার (৩১) সঙ্গে মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সৌদি আরবে থাকাকালীন সুমনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক গভীর হয়। মোকাররম প্রবাসে থাকাকালীন তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে ৫ লাখেরও বেশি টাকা পাঠান।

গত ১৩ মে সৌদি প্রবাসী মোকাররম দেশে ফেরেন এবং তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে তার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের ভাড়াবাসা মান্ডা এলাকায় আসেন। হেলেনা তার দুই মেয়েসহ ওই এক রুমের বাসায় ভাড়া থাকেন। রাতে ওই বাসায় হেলেনার সঙ্গে তাসলিমা, মোকাররম এবং হেলেনার দুই মেয়ে একই রুমে ঘুমান।

হেলেনার ভাষ্যমতে, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার মনমালিন্য হওয়ায় মোকাররম হেলেনার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করেন। বিষয়টি হেলেনা দেখে ফেলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই রাতে তাসলিমা ও মোকাররমের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা নিয়ে ঝগড়া লাগে। মোকাররম বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তাসলিমা তাকে দেওয়া ৫ লক্ষাধিক টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত দিতে না পারলে মোবাইলে ধারণ করা তাসলিমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন মোকাররম।

এই বিবাদ থেকে তাসলিমা হেলেনাকে সঙ্গে নিয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মেয়ের সঙ্গে মোকাররমের অপকর্মের চেষ্টার ক্ষোভ থেকে হেলেনা এই প্রস্তাবে রাজি হন বলে তিনি জানান। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন অর্থাৎ ১৪ মে সকাল বেলা নাস্তার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।