ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

একপেশে ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক বয়ান ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রেখেছে: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ এবং একপেশে ইতিহাসচর্চার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগৎ গড়ে উঠেছে, যার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, কেন মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ভূমিকা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন কিংবা মেজর জলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সিনেমা বা উপন্যাস তৈরি হয়নি। একইভাবে, তিনি উল্লেখ করেন যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, জমিদারি শোষণ বা ১৯৭২-পরবর্তী সময়ের নৈরাজ্যও দেশের মূলধারার শিল্প-সংস্কৃতিতে পর্যাপ্তভাবে স্থান পায়নি।

ফারুকী আরও বলেন যে, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মতো বিষয়গুলো নিয়েও দেশে শক্তিশালী ফিকশন নির্মিত হয়নি। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইলিয়াস আলী, সুমন, আরমান বা আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রকাররা যেভাবে নিজেদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলো সিনেমায় তুলে ধরেন, বাংলাদেশে সেই প্রবণতা দেখা যায় না।

তাঁর মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, সমাজে এমন একটি সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু বিষয়কে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখা হয় না। দ্বিতীয়ত, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে শিল্পীদের ‘রাজাকার’সহ নানা তকমার মুখে পড়তে হয় এবং প্রযোজনা বা অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

ফারুকী আরও দাবি করেন যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘হাই কালচার’ ও ‘লো কালচার’-এর একটি বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রগতিশীল এবং অন্যদের পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সাংস্কৃতিক ফ্রেমিংয়ের কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদ’ টিকে থাকতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনাগুলো সমাজের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে শুধুই একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও, তাঁর কাছে এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন বয়ান ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা বাড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে তীব্র দাবদাহে ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

একপেশে ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক বয়ান ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রেখেছে: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ এবং একপেশে ইতিহাসচর্চার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগৎ গড়ে উঠেছে, যার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, কেন মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ভূমিকা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন কিংবা মেজর জলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সিনেমা বা উপন্যাস তৈরি হয়নি। একইভাবে, তিনি উল্লেখ করেন যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, জমিদারি শোষণ বা ১৯৭২-পরবর্তী সময়ের নৈরাজ্যও দেশের মূলধারার শিল্প-সংস্কৃতিতে পর্যাপ্তভাবে স্থান পায়নি।

ফারুকী আরও বলেন যে, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মতো বিষয়গুলো নিয়েও দেশে শক্তিশালী ফিকশন নির্মিত হয়নি। তিনি উদাহরণ হিসেবে ইলিয়াস আলী, সুমন, আরমান বা আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন, লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রকাররা যেভাবে নিজেদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলো সিনেমায় তুলে ধরেন, বাংলাদেশে সেই প্রবণতা দেখা যায় না।

তাঁর মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, সমাজে এমন একটি সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু বিষয়কে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখা হয় না। দ্বিতীয়ত, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে শিল্পীদের ‘রাজাকার’সহ নানা তকমার মুখে পড়তে হয় এবং প্রযোজনা বা অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

ফারুকী আরও দাবি করেন যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘হাই কালচার’ ও ‘লো কালচার’-এর একটি বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রগতিশীল এবং অন্যদের পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সাংস্কৃতিক ফ্রেমিংয়ের কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদ’ টিকে থাকতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনাগুলো সমাজের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে শুধুই একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও, তাঁর কাছে এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন বয়ান ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা বাড়বে।