আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনযাত্রীদের হয়রানি ও প্রতারণা থেকে বাঁচাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ব্যবহার করে অগ্রিম টিকিট কেনার পরামর্শ দিয়েছে। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যাত্রীদের প্রতারিত করছে। এদের টিকিট সংগ্রহের কোনো সক্ষমতা নেই। অনেক ক্ষেত্রে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ব্যবহৃত সিমকার্ডটিও বন্ধ করে ফেলে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের নিবন্ধিত একটি আইডি ব্যবহার করে ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে এক যাত্রায় সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যাবে। এ সময় সহযাত্রীদের নাম সিস্টেমে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। তাই অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মাধ্যম থেকে টিকিট কিনলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যে ব্যক্তির আইডি ব্যবহার করে টিকিট কেনা হবে, ভ্রমণের সময় তাকে সেই মোবাইল ফোন ও ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি ও টিকিটে উল্লিখিত সহযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ ভ্রমণ করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কোনো প্রতারক চক্র টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বা অন্য কারও আইডি ব্যবহার করে কেনা টিকিট বিক্রির চেষ্টা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে হবে অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর সহায়তা নেওয়া যাবে। এছাড়া, বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে এবং সব ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।
গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রির মধ্য দিয়ে ঈদযাত্রার অগ্রিম অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম আধা ঘণ্টাতেই প্রায় ৬০ লাখ হিট পড়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























