ঢাকা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ব্যাংকে বাড়ছে আমানত, কিন্তু কমছে না জনমনে উদ্বেগ: আস্থার সংকট গভীর হচ্ছে ব্যাংক খাতে

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। মধ্যবিত্ত, প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, ব্যবসায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত আমানতকারীদের একটি বড় অংশ এখনো প্রশ্ন তুলছেন—‘ব্যাংকে রাখা টাকা আদৌ কতটা নিরাপদ?’ এই আস্থার ঘাটতি এখন জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংক খাতের ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো—বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট, পরিচালনা পর্ষদ ঘিরে বিতর্ক, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে আস্থার ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। এর ফলেই আমানত বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে, ইসলামি ব্যাংকিং খাতেও আমানত বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে; ফেব্রুয়ারিতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। ব্যাংকাররা বলছেন, এটি একটি ইতিবাচক প্রবণতা হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল, কারণ নতুন আমানত এলেও পুরোনো গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসেনি।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় দেখা যাচ্ছে, অনেক গ্রাহক এখন দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) না করে স্বল্পমেয়াদি আমানত করছেন। কেউ কেউ আবার এক ব্যাংকে বড় অঙ্ক না রেখে একাধিক ব্যাংকে ভাগ করে রাখছেন। একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষ এখন আর শুধু লাভের কথা ভাবছে না, বরং টাকা ফেরত পাবে কি না—সেটাই তাদের প্রধান চিন্তা।’ গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ব্যাংকের আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে, যা আমানতকারীদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের ৪০ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ, জিও ব্যাগ বরাদ্দ নেই চরাঞ্চলের জন্য

ব্যাংকে বাড়ছে আমানত, কিন্তু কমছে না জনমনে উদ্বেগ: আস্থার সংকট গভীর হচ্ছে ব্যাংক খাতে

আপডেট সময় : ০৮:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। মধ্যবিত্ত, প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবার, ব্যবসায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত আমানতকারীদের একটি বড় অংশ এখনো প্রশ্ন তুলছেন—‘ব্যাংকে রাখা টাকা আদৌ কতটা নিরাপদ?’ এই আস্থার ঘাটতি এখন জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংক খাতের ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো—বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট, পরিচালনা পর্ষদ ঘিরে বিতর্ক, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে আস্থার ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছে। এর ফলেই আমানত বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে, ইসলামি ব্যাংকিং খাতেও আমানত বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে; ফেব্রুয়ারিতে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। ব্যাংকাররা বলছেন, এটি একটি ইতিবাচক প্রবণতা হলেও বাস্তব চিত্র আরও জটিল, কারণ নতুন আমানত এলেও পুরোনো গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসেনি।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় দেখা যাচ্ছে, অনেক গ্রাহক এখন দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) না করে স্বল্পমেয়াদি আমানত করছেন। কেউ কেউ আবার এক ব্যাংকে বড় অঙ্ক না রেখে একাধিক ব্যাংকে ভাগ করে রাখছেন। একজন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষ এখন আর শুধু লাভের কথা ভাবছে না, বরং টাকা ফেরত পাবে কি না—সেটাই তাদের প্রধান চিন্তা।’ গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ব্যাংকের আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চলছে, যা আমানতকারীদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।