ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার, অর্থ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও সমন্বিত রূপ দেবে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানিয়েছেন, এই সমঝোতার অধীনে মাদক পাচার ও মাদক সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে উভয় দেশ প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়াও, মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

চুক্তির আওতায় মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে। উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুন:প্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়েও তারা সম্মত হয়েছে। লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনও পক্ষকে তা জানানো হবে না। চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে নতুন যুগের সূচনা: ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ – মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বার্তা

মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার, অর্থ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও সমন্বিত রূপ দেবে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানিয়েছেন, এই সমঝোতার অধীনে মাদক পাচার ও মাদক সংশ্লিষ্ট অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) প্রতিরোধে উভয় দেশ প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়াও, মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী চক্র এবং নতুন পাচার কৌশল ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা হবে।

চুক্তির আওতায় মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে। উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুন:প্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়েও তারা সম্মত হয়েছে। লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনও পক্ষকে তা জানানো হবে না। চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।