পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর রাজ্যের মানুষের প্রতি আশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, এখন সময় ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। একই সঙ্গে তিনি নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকারও করেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপির বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ প্রথমবারের মতো কোনও বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। বিজেপিকে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় নিয়ে আসার কারিগর হিসেবে অমিত শাহকে ‘আধুনিক ভারতের চাণক্য’ বলে অভিহিত করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া প্রতিটি ‘গ্যারান্টি’ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা কম বলি, কাজ বেশি করি। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।’
২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এই জয়কে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে দেখছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহ বলেছেন আমরা ভয় দূর করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন ভরসা। এখন আমাদের কাজ হবে বাংলাকে নারীদের জন্য নিরাপদ করা এবং সোনার বাংলা গড়ে তোলা।’
শুভেন্দু অধিকারী এবার তার এক সময়ের রাজনৈতিক নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারই শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে পরাজিত করে এক প্রতীকী বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। পাশাপাশি ধরে রেখেছেন নন্দীগ্রাম আসনটিও। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসানে মমতার ছায়াসঙ্গী হিসেবে যে ভূমিকা তিনি পালন করেছিলেন, আজ নিজেকে সেই ‘আসল পরিবর্তনে’র কারিগর হিসেবে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি শুভেন্দুকে একজন ‘যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘প্রশাসন অনেক বাধা তৈরি করলেও শুভেন্দু দমে যাননি। তার সংগ্রামের ফলই আজকের এই জয়।’ পাশাপাশি তিনি ৩ শতাধিক বিজেপি কর্মীর আত্মত্যাগের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি ও কিরেণ রিজিজু শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, তার নেতৃত্বে রাজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
রিপোর্টারের নাম 





















