ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আয়নাঘর ও দমন-পীড়ন সম্পর্কে অবগত ছিলাম নাঃ শেখ হাসিনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, তার ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ সহ বেশ কিছু গোপন কারাগারে বিরোধী দল-মতের বহু বন্দিকে বিনা বিচারে আটকে রাখার বিষয়ে তিনি ‘জানতেন না’।

এছাড়াও, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ১৪০০’র বেশি ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যাপক দমন-পীড়নে স্বয়ং হাসিনাই সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন; কিন্তু এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধে তার কোনো দায় নেই।

ইমেইলের মাধ্যমে বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এই দাবি করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর বাংলাদেশে বেশ কিছু গোপন কারাগারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এসব স্থানে বছরের পর বছর ধরে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অসংখ্য বন্দিকে আটক রাখা হয়েছিল। অভিযোগ আছে যে, এসব কারাগারে আটক থাকা অথবা অপহৃত হাসিনার বহু সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অবৈধভাবে হত্যা করা হয়েছে।

হাসিনার পতনের পর গোপন কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এসেছেন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) এবং রাজনীতিক মাইকেল চাকমা সহ অনেকে। তবে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন প্রমুখের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আজও নিখোঁজ রয়েছেন।

এসব ঘটনার দায় কার উপর বর্তায় বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা দাবি করেন যে, তিনি এসব সম্পর্কে ‘অবহিত ছিলেন না’।

জুলাই অভ্যুত্থান ও দমন-পীড়নের ঘটনা

গত বছর জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে এটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে দমন-পীড়নের জন্য মাঠে নামালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করলে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে হাসিনা সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। তাদের উন্মত্ততায় রাজপথে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। এক পর্যায়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে। তীব্র জনরোষের মুখে শেখ হাসিনা আর টিকতে পারেননি এবং ভারতে পালিয়ে যান। এর আগে-পরে আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী এবং পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তারাও গা ঢাকা দেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান চলাকালে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সামরিক অস্ত্র ও শটগানের গুলিতে মারা যান। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়েছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন এবং অনেকের এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। ১১ হাজার সাতশর বেশি মানুষকে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের ঘটনায় সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। এর আগে, এ বছরের জুলাই মাসে বিবিসি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায় যে, জুলাই আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি তিনি নিজেই দিয়েছিলেন। বিবিসির যাচাই করা ওই রেকর্ডিং অনুসারে, শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং ‘যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি করার’ অনুমতি দিয়েছিলেন।

আদালতে মামলা এবং হাসিনার প্রতিক্রিয়া

ওই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার ঠিক আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, “আমি অস্বীকার করছি না যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, কিংবা অপ্রয়োজনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ আমি কখনও দিইনি।”

নিজের শাসনামলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে আসামিপক্ষের সাক্ষী গুম হওয়া, স্কাইপি কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও ক্ষমতাচ্যুত এই শাসক এখনকার আদালতের বিচারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

হাসিনা দাবি করেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ সাজানো এক ‘প্রহসন’। নিজের শাসনকালে সরকারের প্রধান হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তার দায়ী থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত—হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে এক হাজার ৬৭৬টি জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এই কমিশন ৭৫৮টি অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ডিবি, র‍্যাব, ডিজিএফআই এবং সিটিটিসি দ্বারা পরিচালিত এমন আটটি গোপন কারাগারের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করছি। তবে কোনো কর্মকর্তার অপব্যবহারের প্রমাণ যদি থাকে, তবে তা যেন নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংসতায় প্রাণহানি: দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

আয়নাঘর ও দমন-পীড়ন সম্পর্কে অবগত ছিলাম নাঃ শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, তার ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ সহ বেশ কিছু গোপন কারাগারে বিরোধী দল-মতের বহু বন্দিকে বিনা বিচারে আটকে রাখার বিষয়ে তিনি ‘জানতেন না’।

এছাড়াও, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ১৪০০’র বেশি ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যাপক দমন-পীড়নে স্বয়ং হাসিনাই সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন; কিন্তু এ বিষয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধে তার কোনো দায় নেই।

ইমেইলের মাধ্যমে বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এই দাবি করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর বাংলাদেশে বেশ কিছু গোপন কারাগারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এসব স্থানে বছরের পর বছর ধরে কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই অসংখ্য বন্দিকে আটক রাখা হয়েছিল। অভিযোগ আছে যে, এসব কারাগারে আটক থাকা অথবা অপহৃত হাসিনার বহু সমালোচক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অবৈধভাবে হত্যা করা হয়েছে।

হাসিনার পতনের পর গোপন কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এসেছেন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) এবং রাজনীতিক মাইকেল চাকমা সহ অনেকে। তবে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন প্রমুখের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা আজও নিখোঁজ রয়েছেন।

এসব ঘটনার দায় কার উপর বর্তায় বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনা দাবি করেন যে, তিনি এসব সম্পর্কে ‘অবহিত ছিলেন না’।

জুলাই অভ্যুত্থান ও দমন-পীড়নের ঘটনা

গত বছর জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে এটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে দমন-পীড়নের জন্য মাঠে নামালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনকারীদের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করলে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে হাসিনা সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। তাদের উন্মত্ততায় রাজপথে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। এক পর্যায়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে। তীব্র জনরোষের মুখে শেখ হাসিনা আর টিকতে পারেননি এবং ভারতে পালিয়ে যান। এর আগে-পরে আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী এবং পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তারাও গা ঢাকা দেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান চলাকালে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সামরিক অস্ত্র ও শটগানের গুলিতে মারা যান। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়েছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন এবং অনেকের এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। ১১ হাজার সাতশর বেশি মানুষকে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের ঘটনায় সমন্বয়কের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। এর আগে, এ বছরের জুলাই মাসে বিবিসি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায় যে, জুলাই আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি তিনি নিজেই দিয়েছিলেন। বিবিসির যাচাই করা ওই রেকর্ডিং অনুসারে, শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার এবং ‘যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি করার’ অনুমতি দিয়েছিলেন।

আদালতে মামলা এবং হাসিনার প্রতিক্রিয়া

ওই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার ঠিক আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেন, “আমি অস্বীকার করছি না যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, কিংবা অপ্রয়োজনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ আমি কখনও দিইনি।”

নিজের শাসনামলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে আসামিপক্ষের সাক্ষী গুম হওয়া, স্কাইপি কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও ক্ষমতাচ্যুত এই শাসক এখনকার আদালতের বিচারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

হাসিনা দাবি করেন, তার অনুপস্থিতিতে যে বিচার চলছে, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ সাজানো এক ‘প্রহসন’। নিজের শাসনকালে সরকারের প্রধান হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তার দায়ী থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত—হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে এক হাজার ৬৭৬টি জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। এই কমিশন ৭৫৮টি অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ডিবি, র‍্যাব, ডিজিএফআই এবং সিটিটিসি দ্বারা পরিচালিত এমন আটটি গোপন কারাগারের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করছি। তবে কোনো কর্মকর্তার অপব্যবহারের প্রমাণ যদি থাকে, তবে তা যেন নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়।”