ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের ভয়াবহতা: রামপুরায় গুলিবিদ্ধ রাকিবের সহকর্মীর জবানবন্দিতে চাঞ্চল্য

২০২৪ সালের জুলাই মাসে রামপুরায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৮ জন নিহত এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই মামলায় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনের নিহত রাকিব হোসেনের সহকর্মী মারুফ হোসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মঙ্গলবার মারুফ হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করান। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে মারুফ হোসেন জানান, তিনি পাওয়ারগ্রিড অব বাংলাদেশ কোম্পানিতে সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, তিনি দুপুর প্রায় তিনটায় তার অফিসের ১৩ তলা থেকে দেখতে পান যে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ করা হচ্ছে। পরের দিন, ১৯ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে, তার সহকর্মী রাকিব হোসেন তার বাসায় আসেন। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায়, অফিসের ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করার জন্য তারা দুজনে অফিসে যান, কিন্তু সেখানেও ইন্টারনেট পাননি।

অফিস থেকে ফেরার পথে, মারুফ হোসেন দেখতে পান যে আফতাবনগর থেকে আন্দোলনকারী ছাত্ররা রামপুরা মেইন রোডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাকিব তাকেও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা দুজনে আফতাবনগর গেট পার হয়ে কিছুটা সামনে এগোতেই দেখতে পান যে বিজিবি এবং পুলিশ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে আসছে। মেইন রোডে পৌঁছানোর পর তারা প্রত্যক্ষ করেন যে পুলিশ এবং বিজিবি রামপুরা ব্রিজ থেকে আন্দোলনরত ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। গুলির শব্দে তারা সহ অন্যান্য ছাত্র-জনতা পিছু হটতে শুরু করেন। মারুফ এবং রাকিব একটি যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন। এরপর রাকিব মেইন রোডের দিকে গিয়ে একটি বট গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ভিডিও করার জন্য পকেট থেকে ফোন বের করে। ঠিক তখনই মারুফ হোসেন দেখতে পান যে রাকিব পিছনের দিকে পড়ে যাচ্ছে। দ্রুত তার কাছে ছুটে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে রাকিবের তলপেট থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত হন যে বিজিবি এবং পুলিশের গুলিতেই রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

মারুফ হোসেন আরও জানান, তিনি রাকিবকে কোলে জড়িয়ে ধরে পিছনের দিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা একটি রিকশা দেখতে পান। তাকে রিকসায় তোলার পর সে রিকসা…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় হাঁটু সমান পানি ভেঙে এসএসসি পরীক্ষা: চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

জুলাই বিপ্লবের ভয়াবহতা: রামপুরায় গুলিবিদ্ধ রাকিবের সহকর্মীর জবানবন্দিতে চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই মাসে রামপুরায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৮ জন নিহত এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই মামলায় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আন্দোলনের নিহত রাকিব হোসেনের সহকর্মী মারুফ হোসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মঙ্গলবার মারুফ হোসেন তার জবানবন্দি রেকর্ড করান। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

জবানবন্দিতে মারুফ হোসেন জানান, তিনি পাওয়ারগ্রিড অব বাংলাদেশ কোম্পানিতে সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, তিনি দুপুর প্রায় তিনটায় তার অফিসের ১৩ তলা থেকে দেখতে পান যে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর র‌্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ করা হচ্ছে। পরের দিন, ১৯ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে, তার সহকর্মী রাকিব হোসেন তার বাসায় আসেন। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায়, অফিসের ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করার জন্য তারা দুজনে অফিসে যান, কিন্তু সেখানেও ইন্টারনেট পাননি।

অফিস থেকে ফেরার পথে, মারুফ হোসেন দেখতে পান যে আফতাবনগর থেকে আন্দোলনকারী ছাত্ররা রামপুরা মেইন রোডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাকিব তাকেও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা দুজনে আফতাবনগর গেট পার হয়ে কিছুটা সামনে এগোতেই দেখতে পান যে বিজিবি এবং পুলিশ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে আসছে। মেইন রোডে পৌঁছানোর পর তারা প্রত্যক্ষ করেন যে পুলিশ এবং বিজিবি রামপুরা ব্রিজ থেকে আন্দোলনরত ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। গুলির শব্দে তারা সহ অন্যান্য ছাত্র-জনতা পিছু হটতে শুরু করেন। মারুফ এবং রাকিব একটি যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন। এরপর রাকিব মেইন রোডের দিকে গিয়ে একটি বট গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ভিডিও করার জন্য পকেট থেকে ফোন বের করে। ঠিক তখনই মারুফ হোসেন দেখতে পান যে রাকিব পিছনের দিকে পড়ে যাচ্ছে। দ্রুত তার কাছে ছুটে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে রাকিবের তলপেট থেকে রক্ত বের হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত হন যে বিজিবি এবং পুলিশের গুলিতেই রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

মারুফ হোসেন আরও জানান, তিনি রাকিবকে কোলে জড়িয়ে ধরে পিছনের দিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা একটি রিকশা দেখতে পান। তাকে রিকসায় তোলার পর সে রিকসা…