সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এখনো উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অংশীজনদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুততার সাথে এই আইনগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও, ডিজিটাল নজরদারির সুযোগ তৈরি করে এমন কিছু ধারা বহাল থাকায় এসব আইন পুনর্বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিথিরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনগুলোতে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা জাতীয় চেতনা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি অভিযোগ করেন, পুরনো আইনগুলোকেই নতুন নামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা জনগণের ক্ষমতায়নে তেমন কোনো সহায়ক হবে না।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ প্রতিটি আইনকে সমাজের প্রেক্ষাপটে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং নতুন সরকারের কাছে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি উন্নত করার জন্য আইনগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন অবশ্য আইনগুলোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং সরকার এই লক্ষ্যে কাজ করছে।
মেটার প্রতিনিধি রুজান সারওয়ার তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ডেটা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণের বিধানসহ কিছু ধারার কারণে বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি নিয়েও তারা ভেবেছিলেন। তবে, পাস হওয়া উপাত্ত সুরক্ষা আইনটি মেটা ও গুগলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ইতিবাচক বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ফেসবুকে উস্কানির মাধ্যমে গণমাধ্যমে হামলার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে, উস্কানি যখন এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যায়, তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















