দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষামূলক ধাপে প্রবেশ করল। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময়ের এই যাত্রায় বৈশ্বিক মহামারি ও সংঘাতের মতো নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের শেষ প্রান্তে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগবে এবং পরবর্তী ১৫ দিন চলবে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
নিরাপত্তার দিক থেকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ার তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ মডেলের প্রযুক্তি। এতে স্বয়ংক্রিয় ‘কোর ক্যাচার’ সিস্টেম রয়েছে, যা ৯ মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসেও কেন্দ্রটিকে সুরক্ষিত রাখবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চুল্লিতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল স্থাপনের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় তাপ উৎপাদন শুরু হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই কেন্দ্রটি ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে সক্ষম হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের এই ফুয়েল লোডিং এবং পরবর্তী শতাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী আগস্ট মাস থেকে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে আগামী বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রূপপুরের দুটি ইউনিট পূর্ণ সচল হলে দেশ মোট ২৪০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ পাবে। আজ শুরু হওয়া এই ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রমকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 
























