প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করে কাউকে আর হরতাল করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অতীতের মতো দীর্ঘমেয়াদী হরতাল ডেকে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। জামায়াত নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অপবাদ দিচ্ছে, তারাই গোপনে স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত ও বৈঠক করছে। ১৯৭১ ও ২০০৮ সালের মতো ২০২৬ সালেও যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জনসভায় দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কোটিতে উন্নীত করা হবে এবং নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘবে নতুন করে ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এছাড়াও নারী শিক্ষার প্রসারে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত পড়ালেখা বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ ইতিমধ্যে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে তাদের সমর্থন জানিয়েছে এবং বিএনপি সরকার সেই ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে দেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে, যা বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সাথে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই এই খাতে গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এই জনসভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















